গতকাল ট্রেন দুর্ঘটনার পর কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়িতে ফিরেও চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ নদীয়ার হবিবপুর সুখেন রায়ের

মলয় দে নদীয়া :- এ প্রজন্মের ছেলেদের তীব্র গতিতে মোটরসাইকেল চালানো প্রায়শই লক্ষ্য করা যায় নদীয়ার শান্তিপুরে। উৎসব বা পুজোর মৌরসুমে তা আরো বেড়ে যায়। আজ লোকনাথ পুজো। বহু পুরাতন কলেজ মোড় লোকনাথ মন্দির চত্বর গতকাল থেকেই জমজমাট। সামনেই পূর্বের জাতীয় সড়ক বর্তমানে শহরের প্রধান রাস্তা। ওই এলাকার ১১ বছরের মেয়ে বৃষ্টি সরকার রাস্তা পার হওয়ার জন্য, উদ্যত হলে তীব্র গতিতে ধেয়ে এসে সজরে ধাক্কা বাড়ে ওই নাবালিকাকে। প্রত্যক্ষদর্শ কার্তিক সরকার কমল দাসদের মতে, ওই মোটরসাইকেল আরোহীর গতি এতটাই বেশি ছিলো, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে, সজোরে ব্রেক চাপলে চালক মুখ থুবড়ে পড়ে রাস্তার উপর। দুজনকেই এলাকাবাসীরা উদ্ধার করে নিয়ে ভর্তি করে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। দুর্ঘটনাস্থলে এবং হাসপাতালে শান্তিপুর থানার কর্তব্যরত আধিকারিকরা পৌঁছান। ঘাতক ওই মোটরসাইকেলটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় শান্তিপুর থানার পুলিশ।
অন্যদিকে চালক ওই যুবকের বাবা উত্তম মজুমদার এবং মা লিপি মজুমদার হাসপাতালে পৌঁছান। তাদের কাছ থেকে জানা যায় ওই যুবকের নাম ছোটন মজুমদার, দাদার মোটরসাইকেল নিয়ে আজ সকাল সাড়ে নটার সময় বের হয় সে। তাদের বাড়ি বাগানি পাড়ায়। গুরুতর আহত ছেলেকে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, পায়ে গুরুতর চোট লাগার কারণে কৃষ্ণনগর সদর হাসপাতালে স্থানান্তরকরণ করতে উদ্যত হন তারা।
অন্যদিকে, নাবালিকা বৃষ্টি মাথায় আঘাত পেয়েছে গুরুতর ভাবে। তাকেও কিছুক্ষণ অবজারভেশনে রাখার পর, শারীরিক পরিস্থিতির অনুযায়ী স্থানান্তকরনের সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গেছে হাসপাতাল সূত্রে। গোটা ঘটনায় যথেষ্ট আতঙ্কিত ওই এলাকার নাগরিক এবং পথচারীরা। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে, এ ধরনের তীব্রগতিতে মোটরসাইকেল চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা এবং আইন অনুব ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। যদিও দুই আহতর ক্ষেত্রেই চিকিৎসার খরচের দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
গতকাল ট্রেন দুর্ঘটনার পর কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়িতে ফিরেও চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ নদীয়ার হবিবপুর সুখেন রায়ের

নদীয়া:- গতকাল বালেশ্বরে ট্রেন দুর্ঘটনা কবলে পড়ে করমন্ডল এক্সপ্রেস মৃত ও আহতর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই খবর প্রচার হতেই আতঙ্কের ছাপ ট্রেন যাত্রীদের পরিবারের। ট্রেনে থাকা নদীয়ার হাবিবপুরের দুয়ার পাড় এলাকার সুখেন সুখেন রায় নামে এক যুবক বাড়ি ফিরলে আজ সকালে, বাড়িতে ফিরলেও চোখে মুখে আতঙ্ক ছাপ কাটেনি তার।
মা মলিনা রায়কে , ট্রেন দুর্ঘটনার প্রবল থেকে বেঁচে প্রথমে ফোন করেছিলেন ছেলে সুখেন রায়। জানান ভালো আছি বাড়ি ফিরছি।
এ প্রসঙ্গে বীভৎস সেই দুর্ঘটনার চাক্ষুষ প্রত্যক্ষদর্শী সুখেন রায় আমাদের জানালেন সেই লোমহর্ষক দুর্ঘটনার কথা।
তিনি বলেন, তিনি কাঠের কাজ করেন। এখানে কাজকর্ম না থাকায়, বছর সাথে আগে চেন্নাইতে যান। এই নিয়ে তার 6-7 বার যাত্রা।
গতকাল শালিমার থেকে তিনটে কুড়ির ট্রেনে তিনি উঠেছিলেন। আনুমানিক সাড়ে ছটা নাগাদ উড়িষ্যার বালাসরের কাছে হঠাৎ বীভৎস আওয়াজ এবং কাঁপুনি দিয়ে ট্রেন থেমে যায়। তার কম্পার্টমেন্টে লাগেজ সহ যাত্রীরা ট্রেনের মেঝেতে পড়ে গিয়ে ছোটখাটো আঘাত পেলেও বড়সড় কিছু হয়নি। প্রচন্ড ভয় পেয়ে, বেশ কয়েকজনকে ট্রেন থেকে হাত ধরে নামান। অবশ্য কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স গাড়ি এবং অল্প কিছু পুলিশ উপস্থিত ছিলো, সেখান থেকে কেরালা যাওয়ার বাস ট্রেন কিছুই মিলবে না জেনে ,স্থানীয়দের পরামর্শ মত আধ ঘণ্টা হেঁটে হাইওয়েতে পৌঁছান। সেখান থেকে বাসে করে শিয়ালদহ, এবং অবশেষে আজ ভোরের ট্রেন ধরে হবিবপুরের বাড়িতে।