কেমন আছেন !সেদিনের মুখ্যমন্ত্রীর আন্দোলনের সঙ্গী নদীয়ার ফেলানী বসাক?

মলয় দে নদীয়া :-আজ থেকে প্রায় 28 বছর আগে, 1993 সালেই নদীয়া শান্তিপুর বেলঘড়িয়া 1 নম্বর পঞ্চায়েতের কালিপুর এলাকার ফেলানী বসাকের মূক এবং বধির মেয়েকে ধর্ষণের বিচার পেতে বর্তমান নদীয়া জেলা পরিষদ সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডু সাথে যোগাযোগ করেন পরিবারের পক্ষ থেকে। বর্তমান রাজ্যের কারা দপ্তরের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস কে সাথে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দেখা করতে নিয়ে যান তারা , এরপরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাইটার্স বিল্ডিং এর মধ্যে ধর্ষণের জন্য বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। কেঁপে ওঠে গোটা রাজ্য। ফেলানী বসাক ছেলে, দাবি করে তার এক মামা যিনি বিজেপি করেন, তিনিও পাশে ছিলেন সেসময়! তবে বিজেপি তুলনায় সে সময়ে তৃণমূলের সংগঠনের জোর থাকায় মামাই মুখ্যমন্ত্রীকে জানানোর পরামর্শ দেন।
প্রত্যেকের সচিত্র পরিচয় পত্র দাবি এবং ফেলানীকে বসাকের মেয়ের চার ধর্ষককের গ্রেপ্তারের দাবিতে বাংলার হাজার হাজার মানুষ সংঘটিত হয়েছিলো সে সময়, যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে মুখ্যমন্ত্রী করতে সহায়ক ছিল বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। যদিও ফেলানী বসাকের মেয়ের পরবর্তীকালে সাপের কামড়ে মৃত্যু হওয়ায়, বিচার থেমে যায়।
কিন্তু 2011 সালে মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যাওয়ার পর সকল প্রকার যোগাযোগ হয়নি, ফেলানী বসাকের পরিবারের সাথে। এমনকি স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব, বা তৃণমূল প্রতীক চিহ্নে জয়লাভ করা বিভিন্ন জনপ্রতিনিধিরাও খোঁজ নেননি কোনদিন। একমাত্র একুশে জুলাইয়ের মিটিংয়ে যাওয়ার আমন্ত্রন ছাড়া। তবে স্থানীয় শুভঙ্কর মুখার্জি, সেদিন না থাকলেও সাধ্যমত খোঁজখবর নেন তার। কিছুদিন আগে পর্যন্ত শহীদ দিবসের দিন তিনি প্রতিবাদী ধর্ম তলায় মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যাবার চেষ্টা করেছেন, হাজারো ভিড়ে পৌঁছাতে পারেননি। তারপর অভিমানে আর যাননি কখনো, তবে পাশের বাড়ির অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে মুখ্যমন্ত্রীর শোনেন! অপেক্ষায় থাকেন যোগাযোগের আশায়। বাড়ির পাশেই মাইকে শোনা যাচ্ছে, মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস সভাধিপতি রিক্তা কুন্ডু সহ-সভাপতি দীপক বসু কত নেতৃত্তের ভিড়! অভিমানী ফেলানীদেবীর একটাই কথা! কি হবে মিটিং এ গিয়ে? তিন বার ঘরের নাম বাতিল হয়েছে, একটা ত্রিপল পর্যন্ত জোটেনি, ঘন বরষায়। দীর্ঘ লকডাউনে একমাত্র ছেলে বন্ধ তাদের কাজ বৌমা পরের বাড়ীতে পরিচারিকার কাজ করতো, তারও কাজ বন্ধ ! খোঁজ নিয়েছে কেউ! অথচ সে সময় , রাজ্য স্তরের তৃণমূল নেতৃত্ব খোঁজ রাখতো আমার।