কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুমোদনে, রাজনৈতিক মহলের মতামত

মলয় দে নদীয়া:- ৪৮ ঘণ্টা আগে দেওয়া কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও কমিশন কোনও পদক্ষেপ না করায় বিরক্ত প্রধান বিচারপতি। তারপরেও মনোনয়ন নিয়ে রাজ্যে একের পর এক হিংসার ঘটনা ঘটেছে। মনোনয়ন পর্বে হিংসার বলি তিন। মনোনয়ন পর্ব শুরুর দিনেই ডোমকলে প্রাণ হারান এক কংগ্রেস কর্মী। সেদিনের পর এদিন ছিল পঞ্চায়েতের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। এদিনও চোপড়া ও ভাঙড়ে চলে মাত্রা ছাড়া হিংসা। চলে গুলি। মনোনয়ন জমা দিতে এসে চোপড়ায় গুলিবিদ্ধ হন তিন। মৃত্যু হয় একজনের। অন্যদিকে ভাঙড়েও চলে গুলি। আহত হন বেশ কয়েকজন। মৃত্যু হয় একজনের। এরপরই বিরোধীরা এ বিষয়ে কোর্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারপরই পঞ্চায়েতকে কেন্দ্র করে যে হিংসাত্মক ও অশান্তির বাতাবরণ রাজ্যে তৈরি হয়েছে তাকে রুখতে গোটা রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানোর নির্দেশ দেয় প্রধান বিচারপতির টি এস শিবজ্ঞানম।
আর ঘোষণার পরেই, খুশি আমজনতা। নিশ্চিন্তে নিরাপদে, ভোট দিতে পারার উচ্ছ্বাস চোখে মুখে।
তবে এই নিয়ে, চুলচেরা বিশ্লেষণ রাজনৈতিক মহলে।
শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে মনে করা হয়েছে, এতে তাদের কিছু যায় আসে না। কয়েকটি বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া এ রাজ্য যথেষ্ট শান্তিপূর্ণ রয়েছে।
বিরোধীদের নমিনেশন জমা করার কোন অভিযোগ নেই বরং কোথাও কোথাও তৃণমূল কর্মীরা তাদের সহযোগিতা করেছে।
সিপিআইএম এর পক্ষ থেকে জানানো হয় বিগত দিনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ভোট লুট করার ইতিহাস রয়েছে এই নদীয়ায় এমনকি শান্তিপুরেও। হিংসায় প্রাণহানিও হয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকলেই যে সন্ত্রাস হবে না এমন কোন কথা নেই, তবুও কিছুটা হলেও নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারবেন মানুষ।
বিজেপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের দাবি যে কোন ভোট কেন্দ্রীবাহিনীর নিরাপত্তা বলয়ে হোক। তাই এক্ষেত্রে তারা খুশি। তবে রাজ্য পুলিশ , কতটা তাদের ব্যবহার এবং সহযোগিতা করবে সে প্রসঙ্গে সংশয়ে রয়েছেন তারা।