কুমোর বাড়ি থেকে প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হোক বা পাটে তোলা কিংবা শোভাযাত্রা বা নিরঞ্জন! বিরাট আকৃতির মাটির প্রতিমা যাঁদের কাঁধে ভর করে চলাফেরা করেন, তাঁদের সম্মান জানাতেই আজ এই বিশেষ প্রতিবেদন
মলায় দে নদীয়া :- মিনি আর্মেচারের প্রবনতা বাড়লেও, সুবিশাল আকৃতির মাটির প্রতিমা যেখানে পূজিত হয় তারা কখনোই আকৃতি বাড়াতে না পারলেও কমানোর স্পর্ধা দেখান না কোনো বারোয়ারীই। প্যান্ডেলের মানানসই প্রতিমা আজও নির্মিত হয় কুমোর বাড়িতে। তবে তা নিয়ে আসা, প্যান্ডেলে প্রবেশ করানো, পরবর্তীতে শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করা এবং সর্বশেষে বিসর্জন এই যাবতীয় কাজ যাঁরা করে থাকেন, তাঁদের সম্মানিত করা চোখে পড়ে না খুব একটা। তবে ইদানিং মৃৎশিল্পী ঢাকী এমনকি পুরোহিতদের ও সম্মানিত করার প্রবণতা জন্মেছে। কিন্তু জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পেছনে থাকা সেই সব মানুষগুলির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আজকের এই সংবাদ পরিবেশন। তারা আর কেউ নন সাধারন শ্রমিক। ধান চালের কারখানা, রেশনের দোকান, কৃষি কাজের সাথে যুক্ত অথবা বিভিন্ন ছোটখাটো কলকারখানার শ্রমিক অনেকে মাঝি মল্লার হিসেবে দাঁড় বওয়ার কাজ করেন। কেউ কেউ পরিবহন শ্রমিকও আছেন। পুজোর আগে বাড়তি উপার্জনের জন্য , মূল পেষার মালিকের কাছ থেকে কিছুটা সময় চেয়ে নিয়ে করে থাকেন এ ধরনের কাজ। অদ্ভুতভাবে নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে কাজ ভিত্তিক। ঐক্যবদ্ধ থাকতে তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ লাগে না, লাগে না কোন ইউনিয়ন অথবা সংগঠনের নেতা নেতৃত্ব। একজনকে খবর দিলেই চলে আসেন সকলে। বিভিন্ন মৃৎ শিল্পীদের কাছে, অথবা পূজো উদ্যোক্তাদের কাছে একজনের ফোন নাম্বার থাকলেই যথেষ্ট।
শান্তিপুর ঢাকা পড়ার সন্তোষ দাস পুরাতন মাহাতো পাড়ার ভবদেব মাহাতোদের বেশ কয়েকজনের সাথে কথা বলেছিলাম আমরা। জানতে চেষ্টা করেছিলাম তাদের সুখ-দুঃখের কাহিনী। রোজ হিসাবে নয়, চুক্তিভিত্তিক প্রতিমা তোলা এবং নামানোর কাজেই তারা স্বাচ্ছন্দ বোধ করে থাকেন। যেটুকু জাপান তা নিজেদের মধ্যে সম পরিমাণে বন্টন করে নেন তারা। একত্রে অবশ্য মোটা দড়ি, কাঠের লম্বা পাঠাতন, সাঙা অর্থাৎ মোটা বাঁশ, লম্বা বাঁশের চটা এ ধরনের নানা প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিজেরাই কিনে রেখেছেন। শান্তিপুরসহ রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায়, সুবিশাল আকৃতির কালী প্রতিমা হোক বা দুর্গা, পূজার রাস হোক বা জগধাত্রী কিংবা সিদ্ধিদাতা গণেশ যাঁদের কাঁধে ভর করে চলাফেরা করেন আজ তাদের প্রতি আমাদের সংবাদ মাধ্যমের পক্ষ থেকে রইল শ্রদ্ধা এবং শুভকামনা

