মৌমিতা দেবনাথ
মধ্যবিত্ত বাঙালির সস্তায় পুষ্টিকর খাবার বলতে প্রথমেই মাথায় আছে মুরগির মাংসের কথা। সহজলভ্য অথচ পুষ্টিকর তাই এই মুরগির মাংস সকলের হট ফেভরিট ৮ থেকে ৮০ সকলের প্রিয় এই মাংস। কিন্তু সাবধান যে মুরগির মাংস সহজলভ্য মনে করে আপনি খাচ্ছেন সেই মাংসের পিছনে লুকিয়ে নেই তো বড়োসড় বিপদ। হিতে বিপরীত হচ্ছে না তো। আজ নতুন বাংলার স্পেশাল এই রিপোর্টে থাকছে এ বিষয়ে যাবতীয় তথ্য। বর্তমানে পোল্ট্রি মুরগির মধ্যে অন্যতম হলো ব্রয়লার। সহজলভ্য হওয়ায় এই মুরগির চাহিদা আকাশ ছোঁয়া। কিন্তু যেখানে একটি ব্রয়লার মুরগি বড় হতে সময় লাগে ১৬ সপ্তাহ। সেখানে মাত্র পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে কিভাবে বড় হয়ে উঠছে মুরগি। তবে কি তাদেরকে দেওয়া হচ্ছে কোন হরমোন ইঞ্জেকশন দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য। এত কম সময়ে কিভাবে দু কেজি ওজনের হয়ে উঠছে মুরগী? আপনার মনে প্রশ্ন আসতেই পারে মুরগিকে এমনভাবে বৃদ্ধি করানো হচ্ছে না তো যাতে বুকের দিকে মাংস বৃদ্ধি পায় কারণ কেএফসি ম্যাকডোনাল্ড সহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে এই জাতীয় মানুষের কদর থাকে বেশি। সারা বিশ্ব জুড়ে মুরগির বিভিন্ন প্রজাতি নিয়ে গবেষণাও হয়েছে প্রচুর।কিন্তু ব্রয়লার মুরগির এত দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়া দেখে এই প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। কিন্তু জানেন কি আজকের যে ব্রয়লার মুরগির প্রজাতি আমরা দেখতে পাই তা ১৯৩০ সালে ইউরোপে দুটি প্রজাতির মুরগি মিলিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তখন থেকে কৃত্রিম উপায়ে জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এর চেহারায় এসেছে বিভিন্ন রকম পরিবর্তন। তাই যে মুরগি আপনি দেখতে পাচ্ছেন আজকে সেটা আসলে জিনগত পরিবর্তন। তাই ভয় পাবার কোন কারণ নেই যে মুরগি আজকে বাজারে বিক্রি হচ্ছে এবং তা আপনি কিনছেন তা আসলে মুরগির জিনগত পরিবর্তন। তাই আপনি নির্ভয়ে মুরগির মাংস খেতে পারেন। কোন ভয় নেই। এই মুরগি গুলোকে অত্যন্ত সচেতন ভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়।

