কল্যাণীতে তৃণমূলের গোষ্ঠী কলহের জেরে পদত্যাগ করলেন দলের শ্রমিক সংগঠনের বটলিং প্ল্যান্টের সম্পাদক সুরেন্দর পাশোয়ান। জানা গেছে, দলের শহর সভাপতির বিরুদ্ধাচারণ করে সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছিলেন তিনি। তারপর থেকেই চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিলো বলে অভিযোগ। তা তিনি মানতে না পেরে পদ থেকে অব্যাহতি নেন বলে জানা গেছে।
এদিকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর দীপা ভক্ত জানান, শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অভিযোগ করেছেন আমি সিপিআইএম থেকে তৃণমূলে এসে প্রাক্তন সভাপতির মধ্যস্থতায় কাউন্সিলর হয়েছি। কেউ নয়, দল আমাকে টিকিট দিয়েছে কাউন্সিলরের। তিনি পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন, শহর সভাপতি তো দলবদলু নেতা। তিনি সিপিআইএম থেকে তৃণমূলে আসেন। পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন। বিধানসভা ভোটের পর ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন। মানুষই বলবে কে সুবিধাভোগী। দীপা আরও বলেন, এই সভাপতি ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি কারখানা বোম মেরে, আগুন ধরিয়ে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছিলেন। বিষয়টি উচ্চতর নেতৃত্বকে জানানোও হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৩ জুলাই থেকে ধারাবাহিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ স্থানীয়দের বটলিং প্ল্যান্টে কাজের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। প্রায় সাতদিন হয়ে গেলেও কোনও উচ্চতর নেতৃত্ব বিক্ষোভস্থলে আসেননি।
এরই মাঝে কল্যাণী ইন্ডিয়ান অয়েল বটলিং প্লান্টে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসি-র ইনসাইড সেক্রেটারি সুরেন্দর পাশোয়ান ইন্ডিয়ান অয়েলের অপকর্মের বিরোধিতা করায় এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলায় সংগঠনের চাপে পড়ে নিজের পদ থেকে অর্থাৎ দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করলেন। কিন্তু কল্যাণী পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের দাবিতে একচুলও সরেননি। আন্দোলনকারীদের দাবি নিয়ে তিনি কল্যাণী ইন্ডিয়ান অয়েল বটলিং প্ল্যান্টের বাইরে মূল ফটকের সামনে শান্তিপ্রিয় প্রতিবাদ আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। গত ২৩ তারিখ থেকে তাঁদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চললেও উচ্চতর নেতৃত্বে দেখা মেলেনি। কর্তৃপক্ষও কোনওরকম আলোচনায় বসেনি। আন্দোলনকারী কর্মীদের একটাই দাবি, অবিলম্বে নেতৃত্ব তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। না হলে তাঁরা আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে। মূলত ইন্ডিয়ান অয়েল বটলিং প্ল্যান্টে কর্মী নিয়োগের কোটা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলন বলে প্রকাশ্যে আসছে আন্দোলনকারীদের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে।
প্রসঙ্গত, ২৩ জুলাই কল্যাণীর ইন্ডিয়ান বটলিং প্ল্যান্টে কর্মী বিক্ষোভ ঘিরে ফের আরেকবার তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব সামনে চলে আসে। মঙ্গলবার সকাল থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা বিক্ষোভে সামিল হয়েছেন।তাঁদের দাবি, বটলিং প্ল্যান্টে কর্মী নিয়োগ করতে হলে ১৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই করতে হবে। অন্য কোথা থেকেই কর্মী নিয়োগ করা চলবে না।
জানা গেছে, সম্প্রতি বটলিং প্ল্যান্টে চারজন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। অভিযোগ, শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বিপ্লব ওরফে সজল দের নির্দেশে এই নিয়োগ হয়েছে। যদিও খোদ শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সজল দে আঙুল তুলেছেন প্রাক্তন শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির বিরুদ্ধে। প্রশ্ন করে বলেন, কোনও কাউন্সিলর কী দলীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? বটলিং প্ল্যান্ট কারও পৈত্রিক সম্পত্তি নয় বলেও মন্তব্য করেন সজল। তিনি আরও বলেন, বিগত বিধানসভা ও লোকসভা ভোটে এই ওয়ার্ড থেকে বিজেপি লিড নিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, ওই ওয়ার্ডের সিপিআইএম নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে এই বিক্ষোভ চলছে তৃণমূলের ঝাণ্ডা নিয়ে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলরও সিপিআইএম-এর থেকে এসে প্রাক্তন সভাপতির হাত ধরে তৃণমূলের টিকিট পেয়েছেন বলে তাঁর অভিযোগ।
পাশাপাশি, কল্যাণীর বিধায়ক অম্বিকা রায় বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই জানিয়ে আসছি তৃণমূলের একশ্রেণির নেতা কন্ট্রাক্টরের সঙ্গে যোগসাজশ করে অর্থের বিনিময়ে বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে বটলিং প্ল্যান্ট কর্মী নিয়োগ করছে। ওই ওয়ার্ডের যুবকরা বঞ্চিত হচ্ছে বলেও তাঁর দাবি। তিনি এর প্রতিবাদে প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষকে অভিযোগও করেছেন বলে জানান।
এই বিক্ষোভের বিষয়ে প্রাক্তন শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি অরূপ মুখার্জির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দলের মধ্যে যদি গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকে থাকে তবে তা করেছেন বর্তমান সভাপতিই। তিনিই সংবাদমাধ্যমকে ডেকে এনে দলীয় কার্যালয় দখল করেছিলেন। অরূপ আরও বলেন, আমার-তাঁর বলে কাউন্সিলর হয় না। সবাই দলের কাউন্সিলর।