এসএসসি দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদন, মৌমিতা দেবনাথ,

এসএসসি দুর্নীতি মামলায় সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট,রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় বেশ বড়সড় ধাক্কা। আবারো সিবিআই তদন্তের নির্দেশ খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিবিআই তদন্তের নির্দেশ এবারেও খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তাই নয় রাজ্যের শিক্ষা সচিব কে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার যে নির্দেশ অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় দিয়েছিলেন তাও খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকেই নির্দেশ আসার আগে কলকাতা হাইকোর্টের রাজ্যের শিক্ষা সচিব মনিষ জৈন কে রীতিমত জেরা শুরু করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। এর আগেও এসএসসি নিয়োগ কাণ্ডে সিবিআই এর ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। এসএসসি নিয়োগ কাণ্ডে অবৈধভাবে বেনামি ব্যক্তিদের নিয়োগ করার সুপারিশ স্কুল সার্ভিস কমিশন এর পক্ষ থেকে করা হয়েছে বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। অভিযোগ আনা হয়েছিল যে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে এই মামলার তদন্ত শুরু করেছিল সিবিআই এবং ইডি। তখনই মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশে ফের আরো একবার শিক্ষকদের অতিরিক্ত পদে নিয়োগ করা শুরু হয়। এরপর আদালতে কমিশনের তরফে বলা হয় যে অনেকেই তিন থেকে চার বছর ধরে চাকরি করছে এবং তাদের পরিবারও রয়েছে তাই সেই বিষয়টিও ভাবনা চিন্তা করা উচিত। সেই সময় বেনামী নিয়োগ পত্রের অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আবেদন করা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে। সুপ্রিম কোর্টে বারে বারে ধাক্কা খেয়েছে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চে আজ সিবিআই তদন্তকারিজ এবং রাজ্যের শিক্ষা সচিব কে স্বশরীরে হাজির হওয়ার যে নির্দেশের স্থগিতাদেশ দিলো সুপ্রিমকোর্ট তাতে বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের আইনি পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবী অরুণাংশু চক্রবর্তী। তিনি অভিযোগ জানালেন যে এর আগেও এসএসসি দুর্নীতি মামলায় বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় শিক্ষকদের চাকরি খারিজ করে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন তা খারিজ করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। আর এবারে আবারো একবার তার নির্দেশকে খারিজ করে দিব দেশের সর্বোচ্চ আদালত এর থেকেই বোঝা যায় তার আইনি পদ্ধতিতে কোথাও গন্ডগোল আছে।
যেখানে সুপ্রিমকোর্ট থেকে নিন্ম আদালত গুলোতে বলা হয়েছে যে কোন মামলায় সরকারি আধিকারিক কে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি না করতে। এরপরেও কেন বারবার শিক্ষা সচিব কে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দেশ দিচ্ছেন বিচারপতি অভিজিৎ গাঙ্গুলী। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে নির্দেশ আসার আগেই যেভাবে হাইকোর্টে তিনি জেরা শুরু করেছিলেন তাতে মনে হচ্ছিল রাজ্যের শিক্ষা সচিব কোন লোকাল থানায় আছেন। একজন বিচারপতির কাজ হল কোন কাজের আইন ভঙ্গ হয়েছে কিনা সে বিষয়ে লক্ষ্য রাখা। কিন্তু তিনি তা না করে বারবার আইনি পদ্ধতি ভঙ্গ করছে যে কারণে তার নির্দেশ দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে খারিজ করে দেওয়া হচ্ছে। তবে কি বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের আইনি পদ্ধতিতে সত্যিই কোন গাফিলতি আছে প্রশ্ন উঠছে নানা মহল থেকে।