সুমিত ঘোষ,মালদা: জল যন্ত্রণায় মালদার দুই পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ড। গত ৪৮ ঘন্টার বৃষ্টিতে ইংলিশবাজার এবং পুরাতন মালদার বিস্তীর্ণ এলাকা এখনো জলমগ্ন। জমা জল অন্যদিকে ডেঙ্গির প্রকোপ। কার্যত সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে মালদার দুই পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ড। ইংলিশ বাজার পৌরসভার ৩ নম্বর ২৯ নম্বর, ২৮ নম্বর এবং ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কিছু এলাকা এখনও জলমগ্ন। আর সেই জমা জলেই ডিম পাড়ছে মশা। আতঙ্কে শহরবাসী। ইংলিশ বাজার পৌরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের কুলদীপ মিশ্র কলোনি সহ একাধিক এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে এই একমাত্র ওয়ার্ড যেখানে কোন নিকাশি ব্যবস্থা নেই। গোটা এলাকা জুড়ে হাঁটু জল। আর জমা জলে ডেঙ্গুর আতুর ঘরে পরিণত হয়েছে। ডেঙ্গু আতঙ্কে ঘর বাড়ি ছাড়তে শুরু করেছেন ওয়ার্ড বাসিরা। অথচ এই বিষয় প্রশাসন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ ওয়ার্ড বাসিদের। পশ্চিমবঙ্গে যেভাবে হু হু করে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা, সেখানে দাঁড়িয়ে তারাও আতঙ্কিত হয়ে রয়েছেন। ডেঙ্গু আতঙ্কে তাই বাড়ির সদস্যদের নিয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিচ্ছে
এই বিষয়ে ইংলিশ বাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান কৃষ্ণেন্দু নারায়ন চৌধুরী জানান, জল যন্ত্রণা থেকে শহরবাসীকে মুক্তি দিতে ইতিমধ্যে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীকাল জেলা শাসকের সাথে বৈঠক রয়েছে এবং জমা জল থেকে যাতে ডেঙ্গু না ছাড়াই তার জন্য একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
একই অবস্থা পুরাতন মালদা পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ডের। পুরাতন মালদা পৌরসভার ১,২,৮, ১২,১৩ সহ একাধিক ওয়ার্ড এখনো জলমগ্ন। আজ সেই সমস্ত এলাকা পরিদর্শনে যান পুরাতন মালদা পৌরসভার চেয়ারম্যান কার্তিক ঘোষ। তিনি জানান জল বের করানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে ওয়ার্ড বাসিদের পাশে রয়েছেন তিনি।
এদিকে দুই পৌরসভা এলাকা জলমগ্ন থাকায় এবং ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেওয়ায় এর জন্য জেলা প্রশাসনকেই দায়ী করেছে বিজেপি। বিজেপির দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক অম্লান ভাদুড়ি জানান,প্রতি বছর এই সময় ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দেয়। অথচ আগাম কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনা প্রশাসন। আর যার কারণে এই বারবারন্ত।
পুজোর আগে কার্যত সাঁড়াশি আক্রমণে মালদা জেলার এই দুই পৌরসভা। এখন দেখার বিষয়, জেলা প্রশাসন এবং এই দুই পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জমা জল এবং ডেঙ্গু মোকাবিলায় কে উদ্যোগ গ্রহণ করে। নাকি বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আনন্দেও জলবন্দী থাকবে এই দুই পৌরসভার একাধিক ওয়ার্ড।

