নিজস্ব প্রতিবেদন,মৌমিতা দেবনাথ,
একই শরীরে দুটি মাথা, যমজ বোন হলেও দুজন ভিন্ন প্রকৃতির মানুষ।শরীর এক অথচ মাথা আলাদা এবং দুটি মানুষও ভিন্ন প্রকৃতির। একই শরীর অথচ শরীরে দুটি মাথা আর এভাবেই ১৯৯০ সালে জার্মানিতে জন্মান এই জমজ বোন। যমজ বোন হলেও তাদের রুচি আদব-কায়দা চিন্তাভাবনা পছন্দ-অপছন্দ সবকিছুই একেবারে আলাদা। শুনতে অবাক মনে হলেও এমনটাই সত্যি একজনের ঘুম পেলে অন্যজন ঘুমায় না বা একজনের খিদে পেলে অন্যজনের খাবার রুচি থাকেনা। এমনকি একজন অসুস্থ হলে অন্যজন হন না। বিশ্ববিখ্যাত এই দুই বোনের জন্ম কাহিনীটা একেবারেই অন্যরকম। তাদের মা যখন জন্মের আগে গর্ভবতী অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন তখন চিকিৎসকরা জানান তার যমজ সন্তানের একই শরীরে দুটি মাথা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখ দেখতে পাওয়া যায় যে এমন বাচ্চারা জন্মের কিছু দিনের মধ্যেই মারা যায়। তখন চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন যে তাদের যদি আলাদা করতে হয় তবে একজন হয়তো বেঁচে নাও থাকতে পারেন কারণ দুজনের শরীরে মাত্র তিনটি ফুসফুস। তখনই তার মা সিদ্ধান্ত নেয় যে এভাবেই তিনি তার মেয়েদের বড় করে তুলবেন তিনি চান না যে তার কোন সন্তান মারা যাক। আর সেই থেকেই এভাবে বেড়ে উঠেছে দুই বোন। তবে মানুষের মধ্যে সামান্য কোন খুঁত থাকলেও সমাজ কটাক্ষ করতে ছাড়ে না তাই জমজ বোনের বেড়ে ওঠার সময়ও তাদের শুনতে হয়েছে অনেক রকম সামাজিক বিদ্রুপ। আর আজ ৩০ বছর বয়সে তারা অনেক সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের চেয়েও এগিয়ে আছে একজন গণিত এবং একজন ইংরেজির শিক্ষক। এমনকি পরীক্ষার সময় তারা দুই বোন ভিন্ন বিষয় পরীক্ষা দেন। তবে কিছু কিছু কাজ করতে তাদের সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় কারণ যেহেতু দুই বোনের উচ্চতা কিছুটা হলেও আলাদা। তবে তাদের দুই বোনের ইচ্ছে ভিন্ন মানুষকে বিয়ে করার।

