ইডির নজরে কি এবার শুভেন্দু অধিকারী?

মৌমিতা দেবনাথ
নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে ,গরু পাচার কাণ্ডে শাসকদলের একাধিক নেতা মন্ত্রী এই মুহূর্তে জেলে। শাসকদলের আরো একাধিক নেতা মন্ত্রী রাও নাকি রয়েছে ইডির নজরে, রাজনৈতিক মহলে চাপানোউতোর শুধুমাত্র শাসক দল তাই নয় বিরোধীদল থেকেও তলব করা হতে পারে নেতা মন্ত্রীদের। জল্পনা তুঙ্গে ইডির নজরে এবার নাকি শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু হঠাৎ কেন তিনি। সম্প্রতি বিজেপির বহু নেতা মন্ত্রীদের গলাতেই শোনা গেছে সেই সুর। তাদের কথায়,তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে চলে আসলেও নিস্তার নেই। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের একটি মন্তব্য এই জল্পনা আরো উসকে দেয়। যেখানে তিনি বলেছেন যে কেউ যদি পিঠ বাঁচানোর জন্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেয় তাহলে নরেন্দ্র মোদির জমানায় সে কখনোই নিস্তার পাবে না। তার এই কথায় শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক জল্পনা। তবে কি তিনি আকার ইঙ্গিতে শুভেন্দু অধিকারী কেই নিশানা করেছেন। একসময় মমতা ব্যানার্জির ডান হাত বলে পরিচিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তার ওপরে দলের যাবতীয় দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু হঠাৎই বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদান করে, আর তারপর থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর চক্ষুশুল হন তিনি। তবে খেলা এখানেই থেমে থাকেনি বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রীকে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু। একাধিকবার বিভিন্ন জনসভায় তিনি শাসক দলের উদ্দেশ্যে তৃণমূলের নেতা মন্ত্রীদের চোর আখ্যা দিয়েছেন। বলেছিলেন তিনি নিজে দায়িত্ব নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করবেন। পার্থ চট্টোপাধ্যায় থেকে অনুব্রত মণ্ডল একের পর এক নেতা-মন্ত্রীরা গ্রেফতার হয়েছেন। এরপরই শুভেন্দু অধিকারীর সাথে দলের দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হয়ে ওঠে। কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছিলেন যে শুভেন্দু অধিকারী কে তো প্রকাশ্যে টাকা নিতে দেখা গেছে, এমনকি তার বিরুদ্ধে সারদার কর্ণধার লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন তাহলে এখনো পর্যন্ত তাকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না। তবে ইডির নজরে শুভেন্দু অধিকারী সত্যিই রয়েছেন কিনা তা আগামী দিনেই স্পষ্ট হবে।