মালদা:আষাঢ় শেষ৷ এখন আমন চাষের মরশুম৷ এই সময় চাষিদের নাওয়া খাওয়ার সময় থাকে না৷ এতদিনে বেশিরভাগ জমিতেই আমনের চাষ শুরু হয়ে যায়৷ কিন্তু এবার জলের অভাবে ধানগাছ রোপন করতে পারছেন না কেউ৷ আকাশে মেঘ জমলেও সেভাবে বৃষ্টি নেই৷ তাই আপাতত স্যালোর জলের উপর ভরসা করে ধানের চারা রোপন করছেন সবাই৷ সবারই আশা, বৃষ্টি হবে৷ কিন্তু কবে, কেউ জানে না৷ এই ছবি ধরা পড়েছে পুরাতন মালদায়৷
উত্তর মাধাইপুর গ্রামের আমনচাষি মহম্মদ রাজু আলি এবার বিঘা পাঁচেক জমিতে আমন চাষ করছেন৷ তিনি বলছেন, ‘এবার বৃষ্টির পরিমাণ খুব কম৷ জলের অভাবে ঠিকমতো ধান লাগাতে পারছি না৷ স্যালোর জলে কোনওরকমে ধান লাগাচ্ছি৷ বর্তমানে ধানের চারা লাগানোর শ্রমিকদের মজুরি অনেক বেশি৷ পর্যাপ্ত শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না৷ বীজতলা থেকে চারা তোলার জন্য শ্রমিকরা ৪০০ টাকা মজুরি দাবি করছে৷ আর লাগানোর জন্য ২০০ টাকা৷ শ্রমিকরা দিনে মাত্র চার ঘণ্টা কাজ করে৷ আসলে এলাকার শ্রমিকদের বেশিরভাগই ভিনরাজ্য কিংবা মালদা শহরে কাজ করে৷ সেই কারণেই শ্রমিকদের মজুরি দিন দিন বাড়ছে৷ পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে এইএলাকায় বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ মন ধান উৎপন্ন হয়৷ এই এলাকায় একটি ডিপ টিউবওয়েল আছে৷ কিন্তু আমার জমি তার সীমানার বাইরে পড়ে গিয়েছে৷ তাই আমার সমস্যা বেশি৷ এখন এক বিঘা জমি চাষে সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ৷ সেই হিসাবে ফসল পাওয়া যাচ্ছে না৷’
এলাকার আরেক ধানচাষি উজ্জ্বল চৌধুরী জানান, ‘এখন ধানের চারা রোপনের সময়৷ কয়েকদিন আগে পর্যন্ত জলের ভয়ঙ্কর সমস্যা ছিল৷ তবে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে৷ তার সঙ্গে স্যালোর জল দিয়ে বিঘা তিনেক জমিতে আমন চাষ করছি৷ কয়েকদিন আগে পর্যন্ত চারা রোপনের শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না৷ এখন অবশ্য তাদের পাওয়া যাচ্ছে৷’

