সামাজিক ঘেরাটোপকে উপেক্ষা করে ৫০ বছর বয়সে মায়ের বিয়ে দিলেন মেয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদন,মৌমিতা দেবনাথ,
সামাজিক ঘেরাটোপকে উপেক্ষা করে ৫০ বছর বয়সে মায়ের বিয়ে দিলেন মেয়ে।
সমাজের চিরাচরিত নিয়ম মেয়েরা যদি স্বামীকে হারায় তবে দ্বিতীয়বার আর বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারে না। গোটা জীবন তাদের কাটাতে হয় নিঃসঙ্গতায়। যদিও কালের নিয়মে এখন কিছুটা পরিবর্তন এলেও দ্বিতীয় বার বিয়ে করলে আজও মেয়েদের কপালে জোটে কটুক্তি, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ। এখনো সমাজে বহু মেয়েরা আছে যারা একবার স্বামীর মৃত্যুর পর দ্বিতীয়বার আর বিয়ের পিঁড়িতে বসতে পারেননি। আজীবন রয়ে গেছেন নিঃসঙ্গ হয়ে। আর এবার সমাজের সেই ঘেরা টপকে উপেক্ষা করে ৫০ বছর বয়সে নিজের মায়ের বিয়ে দিলেন তারই মেয়ে। এমন নজির বিহীন এক ঘটনার সাক্ষী থাকল সোশ্যাল মিডিয়া। বাংলা থেকে টোপর মাথায় দিয়ে বর পৌঁছালেন শিলং এ কনেকে বিয়ে করতে। বয়স যখন সবে মাত্র দুই বছর তখনই বাবাকে হারিয়েছিলেন সেই শিলং এর বাসিন্দা দেবারতি চক্রবর্তী। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে মৃত্যু হয় দেবারতির বাবার। বাবার মৃত্যুর পর নিঃসঙ্গ হয়েই কাটিয়েছেন দেবারতির মা মেয়েকে বড় করে তোলার জন্য এবং মানুষের মত মানুষ করে তোলার জন্য কখনো বিয়ে করেননি তিনি। মাত্র ২৫ বছর বয়সে স্বামীকে হারান দেবারতির মা মৌসুমী চক্রবর্তী। আর তারপরেই দেবারতী তার দিদার বাড়িতে বড় হয়ে উঠতে শুরু করে। সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে দেবারতি জানিয়েছেন যে বহুবার তিনি মাকে বিয়ে করার কথা বললেও তার মা করতে চাননি। মায়ের শুধু একটাই চিন্তা ছিল যে মায়ের যদি বিয়ে হয়ে যায় তবে আমার কি হবে। কিন্তু কিভাবে তার মায়ের ঘটলো পাত্রের সাথে এমন যোগাযোগ। প্রশ্নে দেবারতি জানাই যে হঠাৎ তার এক কাকিমা তাকে ফোন করে বলেন যে মাকে একজন পছন্দ করেন, তিনি জানতে পারেন যে কিছুদিন আগেই মায়ের সাথে তার পরিচয় হয়েছে আর এই খবরে অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন দেবারতি যে মা তার জীবনসঙ্গী খুঁজে পেয়েছেন। ৫০ বছর বয়সে মৌসুমী বিয়ে করেন পশ্চিমবাংলার স্বপনকে। পাত্রের বয়সও ৫০ বছর। টোপর মাথায় পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর গিয়েছিলেন মেঘালয়ে। নিজের মায়ের ছবি ইনস্টাগ্রাম একাউন্টে পোস্ট করে দেবারতি দেখেন যে মাকে বিয়ের কনের সাজে খুব সুন্দর লাগছে। যেখানে সমাজে আজও দ্বিতীয়বার বিয়ে করলেই মেয়েদের কপালে জোটে কটুক্তি বিদ্রুপ সেখানে নিজের মায়ের বিয়ে দিয়ে নজির গড়লেন দেবারতি। সত্যিই তো, প্রতিটি মানুষের প্রাণ ভরে বাঁচার অধিকার আছে। গোটা জীবন নিঃসঙ্গ কাটানোর থেকে যদি কেউ নতুন সঙ্গী খুঁজে জীবনের আনন্দ উপভোগ করতে পারে তবে তাতে ক্ষতি কি।