সন্দেশখালিতে বঞ্চিতদের টাকা ফেরাতে উদ‍্যোগী শাসক দল, বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে নথিবদ্ধকরণ

।। সন্দেশখালিতে বঞ্চিতদের টাকা ফেরাতে উদ‍্যোগী শাসক দল, বাড়ি বাড়ি গিয়ে চলছে নথিবদ্ধকরণ। সেই রিপোর্ট মন্ত্রী
পার্থ ভৌমিক, সুজিত বসু, নারায়ণ গোস্বামী,রথীন ঘোষ কে দেবে উপযুক্ত নথি সহ। সন্দেশখালির বেশকিছু এলাকায় গ্রামবাসীদের মাছের ভেঁড়ি লিজের টাকা বাকি। সেই টাকা নাকি আত্মসাৎ করেছেন শেখ শাহাজান ঘনিষ্ঠ শিবু হাজরা ও উত্তম সর্দাররা বলে অভিযোগ। বেশ কিছুদিন ধরেই সন্দেশখালি ২নং ব্লকের বেশ কিছু পঞ্চায়েতে অর্থাৎ জেলেখালি, মনিপুর, সন্দেশখালি ও খুলনা সহ একাধিক গ্রাম পঞ্চায়েতের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করছিলেন শেখ শাহাজান ঘনিষ্ঠ ওই দুই তৃণমূল নেতা শিবপ্রসাদ হাজরা ও উত্তম সরদার এক টাকায় জোর করে লিখিয়ে নিয়ে চাষের জমি, মাছের ভেঁড়ি দখল করে নেয়। দিনের পর দিন সাধারণ মানুষের সেই দখলি জমির মাটি কেটে ভেরি বানিয়ে বল পূর্বক মাছ চাষ করতো শেখ শাজাহান শিবপ্রসাদ হাজরা ও উত্তম সর্দার। এমনকি যে সমস্ত জমি লিজে তারা ব্যবহার করত তার থেকে মহার্ঘ্য যা মিলতো তা জমির মালিক তথা প্রাপকরা পেতেন না। মজুরী বা লিজ বাবদ অর্থ চাইলেই জুটতো বেধড়ক মার, বাড়ীর মহিলাদের সম্ভ্রম নিয়ে টানাটানি করত। এই নিয়ে অভিযোগ ছিল সন্দেশখালীর প্রত্যন্ত ওই গ্রামের মানুষদের মধ্যে। মূলতঃ সন্দেশখালি এলাকা সুন্দরবন লাগোয়া। বছরে একবার চাষ হয় বাকী সময় তাই সেখানে মৎস্য চাষ করেই দিনের পর দিন সংসার চালাতে ও রুজি রোজগারের ব্যবস্থা করতো এলাকার মানুষজন। সেই টাকায় নাকি জোর করে ভাগ বসাতেন ওই দুই তৃণমূল নেতা। বিক্ষোভের আগুন ছড়াতেই গ্রামের মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে যান। শিবপ্রসাদ হাজরা ও উত্তম সরদারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন সাধারণ মানুষ। তারা লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন তাই সেই সমস্যার সমাধানে এবার আসরে নামলো তৃণমূল কংগ্রেস। গ্রামে গ্রামে গিয়ে তৃণমূল প্রতিনিধিরা একটি তালিকা তৈরি করছেন এবং যারা বঞ্চিত তাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত এর সমস্ত রকম চেষ্টা করা হচ্ছে। সন্দেশখালি দু’নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি মহেশ্বর সর্দারের নেতৃত্বে দলীয় নেতা ও কর্মীরা দোকানে দোকানে ও বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্থানীয় মানুষদের সঙ্গে কথা বলে তাদের উপযুক্ত নথি এবং খাতা দেখে কত টাকা বকেয়া রয়েছে সমস্তটাই নথিবদ্ধ করছেন। এবং জানা গিয়েছে সেটা তিনি দলের উদ্বোধন কর্তৃপক্ষকে পাঠাবেন। সন্দেশখালিতে সাধারণ মানুষের ওপর জোর জুলুমের অভিযোগ উঠতেই অস্বস্তিতে পড়ে লোকসভার ভোটের আগে কি ড‍্যামেজ কন্ট্রোলে নামলো শাসক দল? প্রশ্ন তুলছে ওয়াকিবহাল মহল। ইতিমধ্যে কিছুদিন আগেই নেজাটের কালিনগরে রাজ্যের মন্ত্রী পার্থ ভৌমিক, জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী, সন্দেশখালীর তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো, বসিরহাট তৃণমূলের সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান সরোজ বন্দোপাধ্যায় সহ একটি প্রতিনিধি দল অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য দলের স্থানীয় বিধায়ক ও নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন। তারপরেই শুরু হয় দলীয় স্তরে তদন্ত।