মলয় দে নদীয়া :- নদীর স্বাভাবিক গতিপথে বাধা, ফলশ্রুতি হিসাবে জলপথ পরিবর্তিত হওয়া এবং নদী ভাঙ্গন। যা এখন জ্বলন্ত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে, কেন্দ্র রাজ্য উভয় সরকারের কাছেই। সরকার নিযুক্ত প্রযুক্তিবিদ, নদী বিশেষজ্ঞ গবেষক তাদের বুদ্ধিমত্তা এবং বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকল্প রূপায়িত হচ্ছে। কিন্তু তাতেও খুব বেশি সূরাহা মিলছে এমনটা কিন্তু নয়! তাই কিছু শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষ তারা গঙ্গার পাড় ভাঙ্গনের কারণ , এবং স্থায়ী সমাধানের জন্য দীর্ঘ দুই বছর যাবত নানান ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, এবং অভিজ্ঞতার মেলবন্ধনে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন।
প্রশ্ন উঠতেই পারে, একদল কবি সাহিত্যিক, অতীতের গঙ্গা ভাঙনের ইতিহাস ঘেঁটে কি এমন সুরাহাট পথ বের করতে পারবে? কিন্তু ব্যস্ততম মূল্যবান এ সমাজে কজনই বা এ ধরনের চিন্তা ভাবনা করে থাকেন?
যদিও উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, বাড়ির উঠোনে কৃত্রিম গঙ্গা তৈরি করে, শ্যালো মেশিন দিয়ে জলের প্রবাহ তৈরি করে বিভিন্ন বাঁকের মুখে, নূরী পাথর বালির বস্তা বাঁশের খুঁটি ঝোপঝাড় নানান উপকরণ দিয়ে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন, ভাঙ্গনের উৎস নিয়ন্ত্রণে রাখা দরকার। বর্তমানে সরকারি বিধবা অবস্থায় যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে তাতে বিজ্ঞান থাকলেও নদীবিজ্ঞান একেবারেই নেই। মাসের খুটি এবং বেড়া এক্ষেত্রে অনেক বেশি ফলপ্রসু বালির বস্তার তুলনায়। এই সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তারা একটি বইয়ে লিপিবদ্ধ করেছেন। সেই বই, সেচ দপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়ে লেখা গবেষণামূলক বইটির লেখক , ভবেশ মাহাতো বলেন, আধিকারিকরা তার লেখা বইটি পড়ে আগ্রহ প্রকাশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে তবে, সমস্ত ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে না পারার কারণে আগামী আরও দু তিন মাস সময় লেগে যাবে তাদের কাছে সম্পূর্ণ তথ্য পৌঁছতে। তবে ভবেশ বাবু এর আগেও বেশ কয়েকটি ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে নৌকা বিহারে যান। আজও তারা রওনা হন স্টিমার ঘাট বয়রা টেংরিডাঙ্গা সহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। তবে শান্তিপুরের ক্ষেত্রে, ভাগীরথীর অপর প্রান্তে হুগলি জেলায় ভাগীরথী পাড়ে অবস্থিত একটি ইঁটভাটা তাদের পরিত্যক্ত ভাঙ্গা ইঁট ফেলে ভাঁটা রক্ষার প্রচেষ্টায় ক্রমশ এগিয়ে আসছে যা আগামীর দুশ্চিন্তা বলে মনে করেন তিনি।

