শান্তিপুর কলেজের ৭৫ তম বর্ষপূরণ, এবং প্রতিষ্ঠাতা পন্ডিত লক্ষীকান্ত মৈত্রের প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে সেমিনার

মলয় দে নদীয়া :- আজ শান্তিপুর কলেজের ৭৫ তম বর্ষ পূরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে শান্তিপুর কলেজ কর্তৃপক্ষ।
প্রধান অতিথির পদ অলংকার করার কথা ছিলো , শান্তিপুরের বিধায়ক তথা কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি ব্রজ কিশোর গোস্বামীর। বিধানসভায় বাদল অধিবেশন চলার কারণে তিনি আজ উপস্থিত হতে পারেননি। তবে অন্য সকল গভর্নিং বডির সদস্য, সকল প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র ছাত্রী, অধ্যাপক অধ্যাপিকাগণ এবং সকলকর্মচারী ও সহকারি অধ্যাপক অধ্যাপিকাগণের উপস্থিতিতে শান্তিপুর কলেজের স্মার্ট ক্লাস রুমে একটি সেমিনার আয়োজিত হয় । যার প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, শান্তিপুর কলেজের ইতিহাস বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক শ্রী রামকৃষ্ণ চ্যাটার্জি, এবং পশ্চিমবঙ্গ ইতিহাস সংসদের সম্পাদক অধ্যাপক শ্রী আশীষ কুমার দাস।
সমস্ত অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সেমিনার কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ডঃ বিমান সমাদ্দার। কলেজের প্রধান অধ্যক্ষা ডঃ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।
প্রসঙ্গত শান্তিপুর কলেজের প্রথম নাম ছিল “অদ্বৈত কলেজ” পরে নামকরণ হয় “শান্তিপুর কলেজ”। এই কলেজ প্রতিষ্ঠার মুখ্য কারিগর ছিলেন পন্ডিত লক্ষীকান্ত মৈত্র। এই কলেজ প্রতিষ্ঠায় জনৈকা মহীয়সী মহিলার আবাদন্নেশার নাম স্মরণীয় হয়ে আছে। ১৯৪৮ সালের ২২শে জুলাই কলেজ প্রতিষ্টা হয়, ঐ দিন ৪৮ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়ে আই-এ ক্লাস চালু হয়েছিলো বলেই জানা যায়।
একদিকে যেমন কলেজের প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে অনুষ্ঠান, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠাতা পন্ডিত লক্ষীকান্ত মৈত্রের মৃত্যু দিবসও । সম্প্রতি দুদিন আগে ২৩ শে জুলাই ১২৯ তম জন্মদিন উপলক্ষে কলেজ প্রাঙ্গনে স্থাপিত তাঁর মূর্তিতে মাল্যদান করে মহান কর্মকান্ড সম্পর্কে আলোকপাত করা হয় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে। আজ মৃত্যু দিনেও , তাঁর সমগ্র ভারতবর্ষ ব্যাপী উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরা হয়।
পাঠক্রম হিসাবে নতুন নতুন বিষয়, ইংরেজি ইতিহাস বিজ্ঞান বিভাগের প্রভূত উন্নতি সাধনের বিস্তারিত আলোচনা করেন বিভাগীয় অধ্যাপক গণ। আগামীর বিভিন্ন সম্ভাবনাময় দিক, বিগত বেশ কিছু বছর ধরে ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা ক্রীড়া এবং অন্যান্য বিষয়ে সফলতা তুলে ধরেন কলেজ কর্তৃপক্ষ। কলেজের সুবিশাল সবুজ বনাঞ্চল রক্ষা এবং কলেজ ক্যাম্পাসে বিভিন্ন মহামানবের মূর্তি স্থাপনের বিষয়েও আলোকপাত করা হয়।
প্রধান অধ্যক্ষা ডঃ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ইউজিসি অনুমোদিত বিভিন্ন পাঠক্রম, অনলাইন ক্লাস সহ দূরত্বের পড়াশোনা, এনসিসি সমস্ত বিষয়ে এখন জেলার অন্যতম কলেজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। খুব শীঘ্রই যোগা যুক্ত হতে চলেছে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।