শান্তনুর খাসতালুকেই এবার মতুয়া সমর্থিত নির্দল প্রার্থী সুমিতা পোদ্দার

শান্তনুর খাসতালুকেই এবার মতুয়া সমর্থিত নির্দল প্রার্থী সুমিতা পোদ্দার ২০১৯’এর পর আরও একটা লোকসভা ভোট। মতুয়া ভোট নিজেদের ঝুলিতে টানতে নাগরিকত্বের ‘গাজর’ সিএএ ঝুলিয়েছে বিজেপি। প্রতিশ্রুতি ছিল, নিঃশর্ত নাগরিকত্ব। যদিও ঝুলি থেকে বেড়াল বেরনোর পর শর্তের পাহাড় নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে মতুয়া মহলে। এখন পর্যন্ত বনগাঁয় নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা? শূন্য। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা ক্ষোভের মধ্যেই নতুন করে তোপ দাগলেন সম্প্রদায়ের একটি গোষ্ঠী ‘শ্রী শ্রী শান্তিহরি গুরুচাঁদ মতুয়া ফাউন্ডেশন’ সমর্থিত নির্দল প্রার্থী সুমিতা পোদ্দার। প্রচার শুরুর আগে শুক্রবার ঠাকুরবাড়ির আশীর্বাদ নিতে এসেছিলেন তিনি। ক্ষোভের সুর সুমিতাদেবীর গলায়—‘গত পাঁচ বছরে এখানকার সাংসদ কোনও কাজ করেননি মতুয়াদের জন্য। ঠাকুরবাড়ির জন্যও তাঁর কাজকর্ম শূন্য। যা করেছেন শুধু নিজের স্বার্থে।’
মতুয়া সম্প্রদায় প্রভাবিত বনগাঁ লোকসভা কেন্দ্র। এই কেন্দ্রে জয় বা পরাজয়ের ক্ষেত্রে মতুয়া-নমঃশূদ্র ভোটাররাই বড় ফ্যাক্টর। গত লোকসভা নির্বাচনে মতুয়া সহ উদ্বাস্তুদের জন্য নাগরিকত্বের তাস খেলে বাজিমাত করেছিলেন ঠাকুরবাড়ির সদস্য বিজেপির শান্তনু ঠাকুর। মতুয়া ভোট ভাগ হয়েছিল তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে। শান্তনুর খাসতালুকেই এবার মতুয়া সমর্থিত নির্দল প্রার্থী সুমিতা পোদ্দার দাঁড়িয়ে যাওয়ায় সেই ভোট তিন ভাগ হবে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে। এদিন ঠাকুরনগরের তালতলা মোড় থেকে অনুগামীদের মিছিল নিয়ে ঠাকুরবাড়িতে আসেন তিনি। ডঙ্কা, কাঁসর সহ লাল-সাদা নিশান নিয়ে নাচতে দেখা যায় সুমিতা অনুগামীদের। হরিচাঁদ ও গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পুজো দেন প্রার্থী। বড়মার মন্দির তালাবন্ধ থাকায় পুজো দিতে পারেননি। এদিন সুমিতাদেবী বলেন, ‘ঠাকুরবাড়ির সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক থাকা শান্তনু ঠাকুরকে সাংসদ হিসেবে গত পাঁচ বছর দেখেছেন মতুয়ারা। ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করা ছাড়া কোনও উন্নয়নের কাজ করেননি। অনেক হয়েছে, এবার রক্তের সম্পর্কের দোহাই আর চলবে না। সম্প্রদায়ের সার্বিক উন্নয়নের জন্য মতুয়াদের আশীর্বাদ নিয়ে লড়ছি।’ সুমিতাদেবীর কটাক্ষ, ‘ভোট এলেই নাগরিকত্ব নিয়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু ভোট মিটলে সব শেষ! একটাই দাবি, নিঃশর্ত নাগরিকত্ব।’ বড়মার মন্দিরে তালা প্রসঙ্গে তিনি বললেন, ‘এর উপযুক্ত জবাব মতুয়ারাই দেবেন।’ এনিয়ে শান্তনু ঠাকুরকে একাধিকবার ফোন ও মেসেজ করা হলেও উত্তর দেননি তিনি। তবে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি দেবদাস মণ্ডল বলেন, ‘শান্তনু ঠাকুর গত পাঁচ বছরে কী কাজ করেছেন, মানুষ জানে। সুমিতা পোদ্দার আসলে তৃণমূলের প্রার্থী। মতুয়াদের একটি ভোটও পাবেন না।