বড়সড় ধাক্কা আমজনতার ওপরে। দেশজুড়ে অনলাইন ফার্মাসি(Onlione Pharmacy) বন্ধ করতে কড়া নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় ড্রাগ কন্ট্রোল। তবে এই নির্দেশের পিছনে কোনও রাজনীতি নেই। নেই কোনও আমজনতাকে বঞ্চনা করার কোনও কৌশলও। বরঞ্চ এই নির্দেশের পিছনে রয়েছে দিল্লি হাইকোর্টের(Delhi High Court) একটি রায়
সেই রায়ের জেরেই বাংলা(Bengal) সহ দেশের সব রাজ্যের ড্রাগ কন্ট্রোলারকে আশু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে কেন্দ্র সরকার। জানিয়েছে, লাইসেন্স ছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি সম্পূর্ণ বেআইনি। একইসঙ্গে জানা গিয়েছে, দিল্লি হাইকোর্টের গুঁতোয় মোদি সরকার(Modi Government) দেশের অন্যতম ২৪টি বড় কর্পোরেটের ই-ফার্মেসিকে শো-কজ করেছে। লাইসেন্স ছাড়া অনলাইনে ওষুধ বেচায় কেন তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, এই উত্তর তাঁদের কাছে জানতে চেয়েছেন খোদ ড্রাগস কন্ট্রোল জেনারেল, ইন্ডিয়া (ডিসিজিআই) ডাঃ ভি জি সোমানি।
দেশে বর্তমানে বড় কর্পোরেট পরিচালিত ই-ফার্মাসির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। মোট বাজার কমপক্ষে ৩ হাজার কোটি টাকার। দেশের অর্থনীতিবিদরা আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, যেভাবে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে, প্রতি বছর কমপক্ষে ২০-২৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে অনলাইনে ওষুধ কেনাকাটার বাজার। এর একটা
বড় কারণ সেই ওষুধ কেনার ক্ষেত্রে বড়সড় ছাড় পাওয়ার সুবিধা। খুচরো দোকানদারদের কাছে মাসকাবারি ওষুধ কিনলে বড়জোর ১০, ১৫, ১৮, বড়জোর ২০ শতাংশ ছাড় মেলে যেখানে, সেখানে অনলাইনে ওষুধ কিনলে ১৫, ২০, ২২, ২৫ এমনকী ৩০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় মেলে। আর এই ছাড়ের জেরেই ওষুধ বেচে দ্রুত জনপ্রিয়তা পেয়েছে ই-ফার্মাসিগুলি। কিন্তু দেশজুড়ে খুচরো ও পাইকারি মিলিয়ে ওষুধ ব্যবসায় ১০ লক্ষ দোকানদার ও দেড় কোটি মানুষের রুজিরুটি জড়িয়ে রয়েছে। অনলাইনে ওষুধ বিক্রি শুরু হওয়ায় সরাসরি এই ১০ লক্ষ দোকানদার ও দেড় কোটি মানুষের রুজিরুটিতে বড়সড় আঘাত নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, বিনা লাইসেন্সের অনলাইনের দোকানগুলির মাধ্যমে সহজেই ঘুমের ওষুধ ও নারকোটিক ড্রাগ যুবসমাজের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। তার জেরে দেশে ওষুধ খেয়ে নেশা করার প্রবণতাও বেড়ে গিয়েছে হু হু করে। তার জেরেই দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করেছিল দেশে খুচরো ও পাইকারি ওষুধ বিক্রির দোকানদারদের সর্বভারতীয় সংগঠন এআইওসিডি(AIOCD)।সেই মামলাতেই দিল্লি হাইকোর্টের রায়, অনলাইনে যাবতীয় ওষুধ বিক্রি বন্ধ করতে হবে। কিন্তু মজার কথা দিল্লি হাইকোর্টের সেই রায়কে বাস্তবায়িত করার কোনও উদ্যোগই প্রথমদিকে নেয়নি মোদি সরকার। তার জেরে কেন্দ্রকে চাপ দেওয়ায় জন্য এআইওসিডি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে ‘হাল্লা বোল’-এর ডাক দিয়েছেন। য়ার তার জেরে দেশজুড়ে ওষুধের দোকান বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিতেই নড়েচড়ে বসতে বাধ্য হয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। যদিও কেন্দ্রের নির্দেশে এখন বেশ চাপে পড়ে গিয়েছেন আমজনতা।

