মলয় দে নদীয়া:- সবেমাত্র স্বাভাবিক হচ্ছিলো করোনা পরিস্থিতি! আর তারই মাঝে প্রাদুর্ভাব ঘটলো বর্ষার। সম্পূর্ণ বিপরীত ভাবে হলেও অনাবৃষ্টির মতোই ক্ষতিগ্রস্ত হয় জনজীবন।
গঙ্গার জলস্তর বেড়ে দু’কূল ছাপিয়ে লোকালয়ে সৃষ্টি হয়েছে জল যন্ত্রণা, এবং অতি বৃষ্টির ফলে জমা জলের মধ্যেই আবারো প্রবল ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা আবহাওয়া দফতর সূত্র অনুযায়ী। দু এক দিনের জন্য নয়! টানা 5 ই অক্টোবর পর্যন্ত চলবে বলেই হাওয়া অফিসের খবর। সাথে বজ্রবিদ্যুৎ এবং ঝড়ের সম্ভাবনা চিন্তার পারদ বাড়িয়েছে দীর্ঘদিন কর্মহীন হয়ে থাকা পরিবারগুলির। সামনেই দুর্গা পুজো! হাতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ। প্রত্যেকেই নিজ নিজ পেশায় মন দিয়েছেন বাড়তি খরচ যোগানোর উদ্দেশ্যে।
আর তাদের আশায় জল ঢালা শুরু হয়েছে উপর থেকে। পঞ্জিকা মতে “এ বছর মা দুর্গার আগমন হল ঘোটকে ফল ছত্রভঙ্গ ।দেবীর গমন দোলায় ফল মড়ক” তা হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পারছে ভক্তবৃন্দ। যদিও এরইমধ্যে অনেকেই বিশ্বাস করেন কুসন্তান যদি বা হয় কুমাতা কখনোই নয়! মা কখনোই চান না তার সন্তানের অমঙ্গল।
শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মতন মেঘের ফাঁকে রোদ্দুর শুধু দর্শনধারী নয়, অন্ন জোগায় বহু মানুষের।
তাই লন্ড্রি শিল্পের সাথে জড়িত শ্রমিক, সুতো রং করা শ্রমিক, ধান থেকে চাল তৈরি করার পারণে কথা বলার ফুরসত নেই । অভিমানী রোদ্দুরকে দুঃখ দুর্দশার কথা বলে আগামী কয়েকদিনের নিম্নচাপে কাজের ঘাটতি পূরণ করার অদম্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। চলছে পাট শুকানোর চরম ব্যস্ততা। তবে দফায় দফায় লেগে থাকা বৃষ্টির ফলে জমা জল যন্ত্রণা ভোগ কারীদের গোদের ওপর বিষফোঁড়া! মৃৎ শিল্পীরা জানাচ্ছেন যতই ব্লো থাকুক না কেনো, টানা রোদ্রে প্রতিমা শোকানো অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এ সময়ে। প্রতিমা শুকানো থাকলে ঘরে বসে রংয়ের কাজ করা যায়, কিন্তু এবছর বেশিরভাগ সময় কেটেছে বর্ষার মধ্যে তাই ঠিক সময়ে প্রতিমা ডেলিভারি দেওয়ার অনিশ্চয়তায় শংকিত হচ্ছেন তারা।

