মাধ্যমিক উচ্চমাধ্যমিকে কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে শান্তিপুর সমৃদ্ধির আমন্ত্রণে, প্রাত্যহিক জীবন যুদ্ধে হার না মানা বেশ কিছু প্রতিভাও

মলয় দে নদীয়া :-মঞ্চে উঠে সংবর্ধনা নিতে গিয়ে অঝোরে কেঁদে ফেললেন, ডলি সরকার। অবিবাহিত মাঝ বয়সী এই ভদ্রমহিলা করনা পরিস্থিতির মধ্যে, একমাত্র সহায়ক মা-বাবাকে হারিয়েছিলেন। তারপর থেকে বাধ্য হয়েছেন শান্তিপুরের বিভিন্ন প্রান্তে হেঁটে হেঁটে প্যাকেটজাত বাদাম ঝুড়ি ভাজা এবং অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য বিক্রি করতে। পেশাগত কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ই কাটে মানুষের অবজ্ঞা অবহেলায়। তবে শান্তিপুরের সামাজিক সংগঠন সমৃদ্ধির দ্বিতীয় বার্ষিক অনুষ্ঠানে, সংবর্ধনা পেয়ে, তিনি আপ্লুত।
একই রকমভাবে বিশেষভাবে সক্ষম একই পেশার স্বরূপ প্রামাণিকও , দুপুর রোদ্রে নিজের পেশায় কাজ করতে গিয়ে যখন ক্লান্ত হন, গতকালকের সামান্য সংবর্ধনা তার কাছে বড় অনুপ্রেরনা।
মহিলা চা বিক্রেতা কেতকী পাল, টোটো চালিকা, মিনা মল্লিক, হরিজন সম্প্রদায়ের সাফাই কর্মী অঞ্জনা রসুয়া, মৃৎশিল্পী প্রদীপ পাল, ধ্বংসপ্রাপ্ত হস্তচালিত তাঁত বাঁচিয়ে রাখার লড়াকু প্রবীণ ব্যক্তিত্ব মানিক মোদক এরকম ১৬ জনকে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে জীবন সংগ্রামের লড়াইয়ের জন্য শ্রদ্ধা জানানো হয়।
মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে শান্তিপুরের মধ্যে কৃতী ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধিত করা হয়। সংগঠনের সভানেত্রী সোমা ঘোষ বিশ্বাস জানান, বিগত বছরের মতন এ বছরও বৃক্ষ রোপনের মধ্য দিয়ে তাদের অনুষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল সকালে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী, এর পর ছোটদের অংকন প্রতিযোগিতা বয়স অনুযায়ী চারটি বিভাগে।
যাদের পুরস্কৃত করা হয় আজ সন্ধ্যায়, শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ ভাইস চেয়ারম্যান কৌশিক প্রামানিক , এবং পুরসভার বিভিন্ন আধিকারিক, কর্মচারী প্রধান, সিএসসি মেম্বার এবং কাউন্সিলরদের উপস্থিতিতে। উপস্থিত ছিলেন সম্প্রতি শান্তিপুর তথা নদীয়ার গর্ব কীর্তন শিল্পী অনুরাধা গোস্বামী।

সম্প্রতি রেল দুর্ঘটনায় এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর সংগীতানুষ্ঠানের মাধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে অনুষ্ঠানের।
তবে তিনি আরো জানান মাত্র দু বছরের মধ্যে, তারা শান্তিপুরে জনহিতকর এবং সমাজ গঠনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান করেছেন। আর এ সবই সফল হয়েছে, নবপ্রজন্মের কিছু ছেলেমেয়েদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ঐক্যবদ্ধ কর্মকাণ্ডে।
সংগঠনের সভানেত্রী সোমা ঘোষ করের আরো একটি পরিচয় রয়েছে। তিনি চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষের সহধর্মিনী। ছেলের পড়াশোনা সংসারের কাজ এবং বাড়িতে দলীয় এবং প্রশাসনিক লোকজনের মৃত্যু আনাগোনার মধ্য দিয়েও কিভাবে, এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্ভব! এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চেয়ারম্যান রাজনৈতিকভাবে শান্তিপুরের তথা এলাকাবাসীর সার্বিক উন্নয়নে, নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু, অরাজনৈতিকভাবেও যে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, সেই দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই তিনি এ কাজে ব্রতী হয়েছিলেন। এবাদেও , প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অথবা দলীয় পদে থেকে অনেক ক্ষেত্রেই অনেক ধরনের কাজে যেমন সুবিধা থাকে তেমন অনেক অসুবিধাও থাকে। কিন্তু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মধ্য দিয়ে সে কাজ আমরা অনায়াসে করতে পারি। তবে, কারো নাম বলে অন্যজনকে আঘাত করতে চাই না। ৫০ জনের উপর সদস্য সদস্যার সারা বছরের নিরলস প্রচেষ্টা আগামীতে সমৃদ্ধিকে আরো সমৃদ্ধ করবে এ কথা বলতে পারি।