মসজিদের আজানের মাইকে ঘোষণা, অঙ্গনওয়ারীর খিচুড়িতে পোকা, আইসিডিএস এর দুই কর্মীকে ঘরে আটকে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর, সিভিক ভলেন্টিয়ার নীরব দর্শক

মলয় দে নদীয়া:- মসজিদের আজানের মাইকে ঘোষণা অঙ্গন ওয়ারীর খিচুড়িতে পোকা, কেউ যাতে না খায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকুন। পোকাসহ রান্না খিচুড়ি নিয়ে বিক্ষোভ এলাকাবাসীর। তাদের বক্তব্য প্রথমত খোলা জায়গায় অপরিষ্কার জলে রান্না হয় শিশুদের খাবার, এমনকি রান্নার পাত্র ভালোভাবে ধোয়া হয় না, আগের দিনের বাসি ভাত থাকলে তা মিশিয়ে দেওয়া হয় খিচুড়ির সঙ্গে। এইরকমই নানান অভিযোগ করলেন এলাকাবাসী।
আইসিডিএস সেন্টারের ২ কর্মীকে ঘরে আটকে রেখে বিক্ষোভ চলে দীর্ঘ তিন ঘন্টা যাবৎ। সিভিক ভলেন্টিয়ার নিরব দর্শক।
ঘটনাটি ঘটে নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের গয়েশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মানিকনগর মুসলিম পাড়া মাঠের পাড়ার ২৪০ নম্বর আইসিডিএস কেন্দ্রে। মিড ডে মিলের খাবারে কালো সাদা পোকা পাওয়ার জেরে গ্রামবাসীরা বৃহস্পতিবার তুমুল বিক্ষোভ দেখান এলাকার সকলের। তারা ওই কেন্দ্রের ইনচার্জ এবং সহায়িকাকে ঘরের মধ্যে প্রায় তিন ঘন্টার বেশি সময় করে আটকে রাখে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই কেন্দ্রের মিড ডে মিলে ছাত্র-ছাত্রীদের বাসি খাবার, নোংরা জল দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়ানো হয়েছিল। পোকা লাগা ডাল দিয়ে রান্না করা হচ্ছিল। তারা বিষয়টি ইনচার্জ এবং সহায়িকাকে জানিয়েছিলেন। তাতেও কাজ হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা যায়,যে খিচুড়ি রান্না করা হয়েছে, তাতে অসংখ্য কালো সাদা পোকা গিজগিজ করছে। তারা আগেই রান্না বন্ধ রাখার কথা বলতে পারতেন, কিন্তু তা না করে তারা খারাপ পোকা লাগা ডাল দিয়ে খিচুড়ি রান্না করেছেন। এর ফলে শিশুদের অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।ইতিমধ্যে দুই একজন শিশুর পেটে ব্যথা শুরু হয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত এই সুরাহা না হয়,তারা তাদের ঘরে আটকে রেখে বিক্ষোভ দেখিয়ে যাবেন।’এ বিষয়ে মিড ডে মিলের সহায়িকা রেখা বিশ্বাস জানিয়েছেন,’জানুয়ারি মাসে ওই চাল এসেছিল।রং খেলার আগের দিনে ওই ডালের মধ্যে আমি পোকা লক্ষ্য করেছি।বিষয়টি আমি দিদিমণিকে জানিয়েছিলাম।রান্না বন্ধ করে রাখাই যেত। কিন্তু দিদিমণির অর্ডার পেয়ে আমাকে রান্না করতে হয়েছে।’খবর পেয়ে ওই কেন্দ্রে পৌঁছেছিলেন মানিকনগর ফাঁড়ির সিভিক ভলেন্টিয়াররা।তারা বিক্ষোভকারীদের কিছুই বুঝিয়ে উঠতে পারেননি। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য জয়ন্ত মাহাতো ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে জানিয়েছেন,’বিষয়টা এর আগেই নামের লোকজন আমাকে বলেছেন।এটা অত্যন্ত অন্যায় কাজ হয়েছে।’যদিও ওই আইসিডিএস কেন্দ্রের ইনচার্জ শান্তি রায় জানিয়েছেন,’আমি এই কেন্দ্রে চার মাস হল এসেছি। আমার আসার পরে বাসি খাবার দিয়ে বা নোংরা জল দিয়ে রান্না করার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে কয়েক কেজি ডাল পড়েছিল। তাতে একরকমের কালো রঙের পোকা ঘুরতে দেখেছি। যদি এটা যথেষ্ট পরিষ্কার করেই রান্না করা হয়েছে। আমি ওপর মহলে বিষয়টি জানিয়েছি। তারা আমাদের বলেছেন, ভুল হয়েছে বলে গ্রামবাসীদের জানাতে।’
ওই এলাকার মেম্বার জয়ন্ত মাহাতো জানান, জনগনের সমস্যার সমাধানে এর আগেও উপর মহলকে জানিয়েছি। এবারেও জানাবো।
পার্শ্ববর্তী মেম্বার রাধা হালদারের স্বামী সনাতন হালদার বলেন, ছোট ছোট শিশুদের বিষয়ে আরো সচেতন হওয়া উচিত আইসিডিএস কর্মীদের। গ্রামের মানুষের সাথে তিনিও শাস্তির দাবি করেছেন।