বেআইনি নেশা মুক্তি কেন্দ্রে চিকিৎসার নামে ব্যাপক মারধরের জেরে মাদকাসক্ত যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ,দেহ লোপাটের চেষ্টা,কবর থেকে দেহ তুলে ময়না তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা
হরিশ্চন্দ্রপুর,১৪ফেব্রুয়ারি:
নেশামুক্তি কেন্দ্রে এক মাদকাসক্ত যুবককে বেধরক মারধর করে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার তুলসীহাটা নেশা মুক্তি কেন্দ্রের কর্নধার সহ অভিষেক মুরারকা ও তার কর্মচারীদের বিরুদ্ধে।ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার।মৃত যুবকের নাম শওকত আলী (৩২)।বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকার সদলিচক গ্রাম পঞ্চায়েতের তালগ্রাম হাটে।এমনকি ওই মাদকাসক্ত যুবকের দেহ লোপাট করার অভিযোগ উঠেছে ওই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে।এদিন যুবকটির দেহ পরিক্ষা করার জন্য হরিশচন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃতদেহ পরীক্ষা করার আগেই ওই ব্যক্তির দেহ গাড়িতে করে নিয়ে চম্পট দেয় কেন্দ্রের কর্মকর্তারা বলে অভিযোগ।ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল তুলসিহাটায় তদন্তে গেলে মৃত দেহ লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়।এমনকি তড়িঘড়ি করে মৃতদেহটি পরিবারের লোকের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং পরিবারটিকে হুমকি দেওয়া হয় প্রকাশ্যে মুখ না খুলতে।পরিবারের লোকেরা দেরি না করে মৃতদেহ কবরস্থ করে দেয় বলে খবর।নেশা মুক্তি কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের চাপে ওই মৃত ব্যক্তির পরিবার পুলিশের কাছেও অভিযোগ জানায়নি।হয়নি দেহটির ময়নাতদন্ত।এই ঘটনা নিয়ে নেশা মুক্তি কেন্দ্রের কর্ণধারের একটি অডিও রেকর্ডিং ভাইরাল হয়েছে।গোটা ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানা এলাকায়।সব জেনেও
পুলিশ প্রশাসন কেন চুপ রয়েছে এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার বাসিন্দা এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ মারধরের সময় নেশাগ্রস্ত যুবকদের চিৎকারের আওয়াজ ঢাকতে জোরে জোরে ডিজে বাজানো হতো ওই নেশা মুক্তি কেন্দ্রে।দেওয়া হতো না পর্যাপ্ত ওষুধ।সারাদিন রোগীদের শুকনো মুড়ি জল খাইয়ে রাখা হতো।কোন রোগী প্রতিবাদ করলে তাকে দিয়ে খালি হাতে শৌচালয় পরিষ্কার করানো হতো।প্রথমে বিনামূল্যে গরিব ঘরের মাদকাসক্ত যুবকদের চিকিৎসা করার প্রলোভন দেখিয়ে টেনে আনা হতো তারপরে রোগীদের আটকে পরিবারের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হতো বলে অভিযোগ।পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে শেষকৃত্য করে দেওয়া হয়েছে ওই যুবকের। স্থানীয় বাসিন্দা এবং তৃণমূল-বিজেপি সহ একাধিক দলের রাজনৈতিক নেতাদের দাবি অবিলম্বে ওই নেশা মুক্তি কেন্দ্র বন্ধ করা হোক এবং ওই ব্যক্তির মৃতদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করা হোক তাহলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।

