বিধায়কের পিতা 13 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের পদপ্রার্থী, সেই বাড়িরই নিত্য পূজার পুরোহিত সিপিআইএম প্রার্থী রাজনৈতিক সৌজন্য নাকি অন্য কিছু?
মলয় দে নদীয়া:- রাজবাড়ীতেও রাজপুরোহিতের স্থান সবার উপরে, যতই হোক না সে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। চরম মানবিকতা এবং রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের নিদর্শন দেখা গেল নদীয়ার শান্তিপুরে। জগদ্বিখ্যাত শ্রী শ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী বাড়ির সুপুত্র বিধায়ক ব্রজকিশোর গোস্বামী, আর তারই পিতা প্রশান্ত গোস্বামী আসন্ন শান্তিপুর পৌরসভা নির্বাচনের 13 নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী। দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে পৌরোহিত্য করে আসছেন সিপিআইএম দলের একনিষ্ঠ কর্মী বাপ্পা ভট্টাচার্য্য। প্রত্যহ সকালে তৃণমূল দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের ভিড়ের মাঝে সকালে যখন তিনি পুজো করতে আসেন এক মুহূর্তের জন্যও কোনদিন অপ্রস্তুতকর পরিবেশের মধ্যে পড়তে হয়নি, কারণ হিসেবে তিনি বলেন রাজনৈতিক সত্তা পেশা এবং ধর্মাচরণ সম্পূর্ণ পৃথক বিষয়।
তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার মাত্র একদিনের মধ্যেই, গতকাল প্রকাশিত হয়েছে সিপিআইএম প্রার্থী তালিকা। যার মধ্যে 13 নম্বর ওয়ার্ডেই সিপিআইএম প্রার্থী বাপ্পা ভট্টাচার্য্য। রাজনীতির আঙ্গিনায় প্রধান প্রতিপক্ষ হলেও প্রশান্ত গোস্বামী অবশ্য বিষয়টিকে আমল দিতে রাজি নন, তিনি বলেন রাজনীতি হলো মতাদর্শের লড়াই, ব্যক্তি বা ধর্মাচরণে নয়। অন্যদিকে বাপ্পা ভট্টাচার্য বলেন, ঠাকুরের টানে এ বাড়ির সাথে সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, কংগ্রেস তৃণমূল বিজেপি যাই হোক না কেনো অনেক বাড়িতেই আমি পুজো করে থাকি তবে সেটা একজন পূজারী হিসেবে। তার সাথে রাজনৈতিক কোনো সম্পর্ক নেই। দলীয় নীতি-আদর্শ এবং প্রার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী মানুষ গণতান্ত্রিক ভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের পছন্দসই প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে তবে নিশ্চয়ই তার পেশা দেখে নয়।
তৃণমূল কংগ্রেস বা সিপি আইএম এর মধ্যে রাজনৈতিক সৌজন্যতা ছাড়া অন্য কিছু দেখতে না পেলেও, বিজেপি অবশ্য রাজনৈতিক খুঁজে পেয়েছেন। ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার নদিয়া জেলার সাধারণ সম্পাদক দীনেশ রায় বলেন, কম্যুনিস্টদের ধর্মের প্রতি আনুগত্য হয়েছে এটা ভালো, তবে সিপিআইএম যে তৃণমূলের বি টিম তা আরো একবার প্রমাণিত হলো।

