মলয় দে নদীয়া:- বিজেপি যুব মোর্চার ডাকে সোমবার শহীদ দিবস উপলক্ষে সারা রাজ্যব্যাপী মশাল মিছিলের আয়োজন করা হয়েছিল দলীয় কর্মী- সমর্থকদের নিয়ে।নদীয়া জেলার শান্তিপুর, চাকদহ, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, সহ আরও কয়েকটি জায়গায় সন্ধ্যা এবং তার পরেও লক্ষ্য করা গেল।শান্তিপুরে সোমবার সন্ধ্যায় দেখা গেল, বিজেপির নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সভাপতি অশোক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে ডাকঘর মোড় থেকে বাইগাছি মোড় পর্যন্ত এক মশাল মিছিল করা হয়েছে। মিছিল শেষে অশোকবাবু এক পথসভায় বলেন, সম্প্রতি ত্রিপুরায় অশান্তি সৃষ্টিকারী তৃণমূল, কেন্দ্রের অনেক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করছে এ রাজ্যের মানুষকে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে,ভ্যাকসিন নিয়ে স্বজনপোষন এবং দুর্নীতির আখড়া হয়ে উঠেছে এ রাজ্যে তৃণমূলের বাড়বাড়ন্তে। তারই প্রতিবাদে এই মশাল মিছিল। একটা সময় ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদের আত্মাকে আলোকিত করার উদ্দেশ্যে মশাল মিছিল বার করত একশ্রেণীর মানুষ।
শান্তিপুরও মশাল মিছিল করা নিয়ে আবেগ জড়িত রয়েছে! বহু প্রাচীনকাল থেকেই কালী পূজোর বিসর্জন উপলক্ষে মশাল মিছিল করত একাধিক বারোয়ারি পুজো কমিটি । বিভিন্ন পাড়া, ক্লাব সেই মশাল মিছিলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল বলে শান্তিপুরের মানুষজন বলছেন। পুজোতেও মশাল শুভযাত্রা শান্তিপুরের ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছিল।তবে পরিবেশের কথা মাথায় রেখে, আইনের অনুশাসনে একটা সময় তা বন্ধ হয়ে যায় । অথচ সোমবার সন্ধ্যার পরে বিজেপির এই মশাল মিছিল নিয়ে শান্তিপুরের একাধিক মানুষের মধ্যে গুঞ্জন লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাদের দাবি, প্রশাসন কীভাবে অনুমতি দিল? এমনকি দীর্ঘ এক ঘণ্টার মধ্যে প্রশাসনিক টহলদারি লক্ষ্য করা যায়নি। শুধু বিজেপি নয়, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি হোক বা অন্য কোন ইস্যুতে সিপিআইএম, তৃণমূল বা যেকোন বিক্ষোভ কর্মসূচিতে ইদানিং প্রায়শই রাস্তার উপর টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে প্রশাসনের উপস্থিতিতেই। মাস্কবিহীন অনেক মানুষের সমাগম হয়! তবুও আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। অথচ বছরে একটি মাত্র দিনে বিপুল সংখ্যায় মানুষের ধর্মীয় ভাবাবেগে হাত করতে এতটুকু বাধেনি প্রশাসনের। শান্তিপুরের বন্ধ হওয়া মশাল মিছিল আবারও শান্তিপুরের রাজপথে রাজনীতির হাত ধরল। পথ দেখাল বিজেপি। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি সভাপতি অশোক চক্রবর্তীর বক্তব্য,’ ভোট পরবর্তী অংশ এবং ভ্যাকসিন দুর্নীতি নিয়ে মানুষের আবেগ,প্রতিবাদকে প্রজ্বলিত করার জন্য আমরা এই মশাল মিছিলের আয়োজন করেছি। যথেষ্ট নিয়মকে মান্যতা দিয়েই বিজেপির পক্ষ থেকে এই মশাল মিছিল করা হয়েছে। যদিও এই মশাল মিছিলের তীব্র বিরোধিতা করেছে শান্তিপুর সায়েন্স ক্লাব। তাদের পক্ষ থেকে সুব্রত বিশ্বাস জানিয়েছেন ,’আন্দোলনের রূপরেখা অন্য কিছু হতে পারত। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় আগুন জ্বালানো থেকে বিরত থাকা প্রত্যেকদলের কাছেই কাম্য।দাহ্য পদার্থ যাই হয়ে থাকুক, তা থেকে নির্গত কার্বন বাতাসে মিশে পরিবেশকে কলুষিত করে। ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। রাজনীতির কর্মসূচি হিসেবে যদিি এইভাবে মশাল মিছিল করা চলতে থাকে, তাহলে আমাদের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হতে হবে।’

