বাড়িতে তার অভাব নিত্য সঙ্গী তবু বরাবর চোখে বড় হওয়ার স্বপ্ন। জন্ম থেকেই শারীরিকভাবে অক্ষম।আর্থিক অসচ্ছলতার মাঝেও এবার উচ্চমাধ্যমিকে কৃতিত্বের নিদর্শন রাখে ঈশ্বর সাপুই। ৪৭১ নম্বর পেয়ে নজর কাড়া ফলাফল করে পুরাতন মালদা শহরবাসীর নজর কেড়েছে শারীরিকভাবে অক্ষম ঈশ্বর সাপুই। এরপরও জীবন যুদ্ধে হার না মেনে মনের ইচ্ছা শক্তি আর পড়াশোনার অদম্য বাসনা থেকে সকল বাঁধা পেরিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসেছিল ঈশ্বরী সাপুই। নিজের স্বপ্নকে সঙ্গে নিয়ে পরিবারের
পুরাতন মালদা পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোষপাড়া এলাকায় ছোট্ট একটি টিনের চালী দেওয়া বাড়িতে মা,দিদা এবং বোনের সাথে থাকে ঈশ্বর সাপুই। বাবা গোপাল সাপুই কয়েক বছর আগেই মারে গেছেন। এরপর সংসারের হাল ধরে মা বুলটি সাঁপুই। একটি স্কুলের রাধুনীর কাজ করে সামান্য বেতন পান তিনি। তা দিয়ে কোনরকমে চলে সংসার। ফাঁকা সময়ে করেন সেলাইয়ের কাজ। মেয়ের এতো ভালো ফলাফলে গর্বিত তিনিও। শারীরিকভাবে অক্ষম ওই ছাত্রীর এতো ভালো ফলাফল এই কথা শুনে নিজেকে আটকে রাখতে পারেননি, পুরাতন মালদা পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার সশরীরে ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে হাজির হন ভাইস চেয়ারম্যান। ফুলের তোড়া এবং মিষ্টিমুখ করিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয় ওই ছাত্রীকে। তার পাশাপাশি তুলে দেওয়া হয় কিছু আর্থিক সাহায্য। এখানেই থেমে থাকেনি ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম। ওই ছাত্রীর উচ্চ শিক্ষা কামনা করে এবং আগামীতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতি মাসে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, পুরাতন মালদার গর্ব ইশ্বর সাপুই। অদম্য শক্তি এবং মনের জোরে সমস্ত বাধা-বিপত্তি কাটিয়ে এত ভালো ফলাফল করেছে সে। পড়াশোনার সাথে ওই ছাত্রী হাতের কাজও করে। সরকারি সাহায্যের পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবেও ছাত্রীর পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি। অন্যদিকে এই বিষয়ে ওই ছাত্রী জানান, সে যে এত ভালো ফলাফল করবে ভাবতে পারিনি। তার উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য পুরাতন মালদা পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান কে পাশে পেয়ে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। আগামীতে তার প্রিয় বিষয় বাংলা নিয়ে পড়তে চাই। তার উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জন্য পাশে পেয়েছেন পুরাতন মালদা পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান কে। তার পাশাপাশি তার এই সাফল্যের জন্য মা এবং পরিবারের সদস্য তার পাশাপাশি শিক্ষক শিক্ষিকা ও বন্ধুবান্ধবদের ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন তিনি।

