মলয় দে নদীয়া :- শারীরিক অক্ষমতা থাকলেও, মনের জোরেই ওঁরা সমাজের মূল স্রোতে। তাই শান্তিপুরের বিশেষভাবে সক্ষম দের নিয়ে গড়ে ওঠা প্রতিবন্ধন সংস্থাকে বিভিন্ন সমাজ সংস্কার এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে পিছিয়ে থাকে না আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের থেকে।
চলছে অরণ্য সপ্তাহ রাস্তার পাশে সরকারি খোলা মাঠে ক্লাব বা বারোয়ারি মাঠে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হোক বা সরকারি প্রচেষ্টায় বৃক্ষরোপণ চলছে।
কিন্তু শান্তিপুরের প্রতিবন্ধন বেছে নিলো, বেশ কয়েকটি মসজিদ এবং মন্দির সহ একমাত্র গির্জা।
তাদের মতে, পাখি, বাদুড়, বানর এবং অন্যান্য প্রানীদের খাদ্য সঙ্কট দেখা দিচ্ছে ইদানিং। গাছ লাগানো হচ্ছে তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ফল বিহীন। আর ফলের গাছ! ব্যবসায়িক ভিত্তিতে হোক বা বাড়িতে পশুপাখির আক্রমণ ঠেকাতে নানান উপায় বেছে নিচ্ছেন গৃহস্থরা। অক্সিজেনের প্রয়োজন তো অবশ্যই আছে কিন্তু, খাদ্যের দিকটাও মাথায় রাখা দরকার, ওদের সংখ্যাটাও কম নয়, ক্রমশ বন জঙ্গল কেটে লোকালয় তৈরি হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে তারা।
মূলত মন্দির মসজিদ গির্জা বেছে নেয়া হয়েছে এই কারণে, সেখানে নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ধর্মপ্রাণ মানুষ থাকেন, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কারো থাকে না, আবার সব সময় নিয়মিত পাহারা দেওয়া সম্ভব হয় না তাই সেখানে নিশ্চিন্তে নিরাপদে ওই ধরনের পাখিরা খাদ্যের যোগান পাবে।
সংগঠনের সভাপতি সুজন দত্ত জানান, গতবারও শান্তিপুর বাইপাসের পাশে লাগানো হয়েছিলো, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং দেখভালের অসুবিধায় বেশ কয়েকটি মারা যায়! তাই এবছর সহৃদয় এক গাছ প্রেমী ব্যক্তি ভাস্কর লাহিড়ীর কাছে, চেয়েছিলাম ফলের গাছ, উনি 30 টি গাছ দেওয়ার পর, শান্তিপুরের চারটি মসজিদ তিনটি মন্দির এবং একমাত্র গির্জায় তা পোঁতা হয় কর্তৃপক্ষের নিজ দায়িত্বে বড় করে তোলার অঙ্গীকারের ভিত্তিতে। সবেদা ,আম নারিকেল, কাঁঠাল, জাম, পেয়ারা এ ধরনের ফলের গাছ এবং বকুল, চাঁপা, জবা, কৃষ্ণচূড়া নানান ফুল গাছ লাগানো হয়।
প্রায় 25 টি হুইলচেয়ার গাড়ি করে তারা, গতকাল এবং আজ সকাল 7 টা থেকে বেলা 11 টার মধ্যে সারা শান্তিপুরে ঘুরে এই কর্মসূচি শেষ করে।
মন্দির মসজিদ বা গির্জা প্রত্যেক কমিটি তাঁদের সাধুবাদ জানাই এই উদ্যোগকে।

