ফোন কলে সন্মোহিত! পুরস্কারের ১৬৪৯৯ টাকা পেতে গিয়ে, উল্টে প্রতারিতর একাউন্টেই দিয়ে সর্বশান্ত হলেন এক পরিচয়িকা

মলয় দে নদীয়া :- বিষয়টি নতুন কিছু না। অনেকের ক্ষেত্রেই আকর্ষণীয় পুরস্কারের কথা শোনা যায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। সচেতনরা এড়িয়ে যান, লোভীরা পড়েন বিপদে।
নদীয়ার শান্তিপুর শহরের কুড়ি নম্বর ওয়ার্ডের সিংহপাড়া লেনে পেশায় পরিচায়িকার কাজ করা শেফালী ঘোষের, মোবাইলে এইরকমই এক অজ্ঞত পরিচয় ব্যক্তির ফোন আসে গতকাল সন্ধ্যায়। বহুল প্রচলিত একটি মোবাইল নেটওয়ার্কের নাম করে তাকে বলা হয়, তিনি সেরা ব্যবহারকারী মনোনীত হয়েছেন, আর তার পুরস্কার স্বরূপ ১৬৪৯৯ টাকা পাবেন, তবে সেক্ষেত্রে, বাড়ির নিকটবর্তী কোন অনলাইন মানি ট্রান্সফার সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে, এই টাকাটা পাঠানোর সাথে সাথে, পুরস্কারের টাকা ঢুকে যাবে একাউন্টে। তবে তাকে সম্মোহিত করার জন্য, বলা হয় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই টাকা নাকি দোকানদার নিজেই তুলেনেন, পাননা প্রকৃত গ্রাহক তাই, সাইবার ক্যাফে দোকানদারকে ভাইয়ের অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ছোট্ট একটা মিথ্যা কথা বলার পরামর্শ দেন ফোন কলে থাকা অজ্ঞাত ঐ ব্যক্তি, এবং তিনি সমস্ত ঘটনা ঠিকঠাক পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা বোঝার জন্য ফোন না কাটার পরামর্শ দেন।
প্রথম একটি দোকান থেকে, আগে টাকা পরে ট্রান্সফারের কথা বললে, শেফালী ঘোষ তার পরিচিত একটি দোকানে যান, আর সেখানেই বিশ্বাসের সাথে কিছুক্ষণের মধ্যেই টাকা দিয়ে দেওয়ার স্বীকারোক্তিতে এবং ভাইয়ের শরীর খারাপের কথা শুনে দ্বিতীয় দোকানদার সেই ১৬ ৪৯৯ টাকা অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে দেন। আর তারপরেই, অন কলে থাকা ওই ব্যক্তির ফোন সুইচড অফ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা প্রতীক্ষার পরেও, মোবাইল খোলা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে দোকানদার তার ন্যায্য পাওনা পেতে ওই মহিলাকে আটকে রাখেন। বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট চাঞ্চল্য এবং উত্তেজনা পরিস্থিতি তৈরি হয়। মহিলা ফোন করেন তার মা বাসন্তী সাধুখাঁকে। তিনি নগদ টাকা নিয়ে এসে মেয়েকে নিয়ে ফেরেন বাড়িতে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আমাদের বলেন এক ছেলে এবং মেয়ে নিয়ে জামাই তাঁতের কাজ করে সংসার চালাতে পারে না ভালো মতন করে, তাই বাধ্য হয়ে মেয়ে পরিচায়িকার কাজ করে লোকের বাড়িতে। কিন্তু এত বড় ভুল সে করে ফেলবে তা বুঝিনি কখনো। তবে এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে আর না হয় তা জানিয়ে শান্তিপুর থানায় একটি অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রতারিত হওয়া শেফালী ঘোষ জানিয়েছেন, ফোন না কাটার, এবং সামান্য সময়ের জন্য এই অফার থাকার মিথ্যা প্রলোভনে, আমি সন্মোহিত হয়ে পড়েছিলাম, অন্য কাউকে যে জানবো সে বুদ্ধিও লোপ পেয়েছিলো। তবে, এখন জানতে পারছি এ ধরনের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে তাই প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, সাইবার ক্রাইম হিসাবে আগামী দিনে প্রশাসন এদের কঠোরতম শাস্তির ব্যবস্থা করুক।