মলয় দে নদীয়া:- প্রায়শই প্লাস্টিক চাল নিয়ে হইচই লক্ষ্য করা যায় বিভিন্ন এলাকায়। এই নিয়ে রেশনের দোকানে বিক্ষোভ, পাড়ায় এসে কেন্দ্র রাজ্যের রাজনীতি। কখনোবা মহিলা রেশন গ্রাহকরা তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে নিশ্চিত হয়ে বলে থাকেন, ওগুলো পোকা, ধরা মরা চাল, যা জলের উপর ভেসে ওঠে।
আর তাই ভেবে সেই চালগুলোকে বাদ দিয়েই রান্না করে থাকেন। রান্নার পরেও তাদের অভিযোগ থাকে, ঘন গাড় ফ্যান, এবং আঠালো ভাতের জন্য তারা অসন্তুষ্ট হয়ে থাকেন।
কিন্তু খাদ্য দপ্তরের অনুযায়ী ওগুলো প্লাস্টিক নয় পুষ্টি সমৃদ্ধ চাল। যা তৈরি হয় ফলিক এসিড আয়রন ভিটামিন এবং চালের গুঁড়ো দিয়ে, এবং সমগ্র চালের মধ্যে এক শতাংশ হারে মেশানো থাকে, প্রান্তিক পরিবারগুলিতে যদি অন্যান্য খাবার থেকে ঘাটতি হয় তা পূরণের জন্য। এ বিষয়ে প্রত্যেকটি রেশন দোকানে, বিজ্ঞপ্তিও লাগানো আছে।
কিন্তু বিভিন্ন বিজ্ঞপ্তির মধ্যে তা এতই ছোট পরিমাণে অনেকেই লক্ষ্য করতে পারেন না অথবা কম পড়াশোনা জানা বা না জানা গ্রাহকরা তা থেকে রয়ে যান সম্পূর্ণ অন্ধকারে। তবে এ বিষয়ে গ্রাহকদের নিয়ে সরকারি তরফে কোনো সচেতনতামূলক অনুষ্ঠানও লক্ষ্য করা যায় না খুব একটা।
তবে আজ আমরা উপস্থিত হয়েছিলাম বিভিন্ন রেশন দোকানে। সেখানে বেশিরভাগ মানুষই জানেন না , এমনই জানালেন আমাদের ক্যামেরার সামনে, তবে ডিলাররা দায় সেরেছেন সামান্য একটি বা দুটি পোস্টার লাগিয়েই।
শুধু চাল নয়, রেশনের আটার ক্ষেত্রেও, ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে, অত্যাধিক ভূষি থাকার কারণে রুটি শক্ত হয়ে যাওয়া, এবং স্বাদে ময়দার মতন অপেক্ষাকৃত কম সুস্বাদু হওয়ায় তারা তা গবাদি পশুর খাবার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন অনেকে, কখনো বা বিক্রি করে দেন।
কিন্তু তাদের এই সচেতনতা ফেরাবে কে?
এ কাজ সংবাদ মাধ্যমের না হলেও, সত্যি তুলে ধরার জন্য আমরা পৌঁছেছিলাম শান্তিপুর ব্লকের ফুড সাপ্লাই বিভাগের আধিকারিক এর কাছে। তবে তিনি, ক্যামেরার সামনে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি , জানান এ বিষয়ে জেলা অথবা মহুকুমায় দায়িত্বে থাকা আধিকারিকের সাথে কথা বলতে।
কিন্তু সচেতনতামূলক একটি বিষয়ে রানাঘাট পৌঁছানো, এবং তার প্রতীক্ষায় থাকা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
তাই তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এই খবর পরিবেশিত হলেও, সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি মহৎ উদ্দেশ্য তুলে ধরতে এত অসুবিধা কোথায়? আন্তরিকতা বিহীন কাগুজে বাঘ হয়ে আদৌ কি সাধারণ মানুষকে সচেতন করা সম্ভব হবে? এই প্রশ্নই উঠছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

