পার্থেনিয়ামের জঙ্গলে ঢেকেছে হাসপাতাল কর্মীদের আবাসন, প্রাচীর থাকলেও নেই দরজার ব্যবস্থা, তাই বাইরের আবর্জনা এসে জমে আবাসনে ঢোকার পথে,একমাত্র পুকুর তাও সংস্কার নেই বছরের পর বছর, নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল মশার উপদ্রবে শুধু রাত নয় দিনের বেলাতেও দরজা যাতে জানলা থাকে বন্ধ।

মলয় যে নদীয়া:-
পার্থেনিয়ামের জঙ্গলে ঢেকেছে হাসপাতাল কর্মীদের আবাসন, প্রাচীর থাকলেও নেই দরজার ব্যবস্থা, তাই বাইরের আবর্জনা এসে জমে আবাসনে ঢোকার পথে,একমাত্র পুকুর তাও সংস্কার নেই বছরের পর বছর, নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল মশার উপদ্রবে শুধু রাত নয় দিনের বেলাতেও দরজা যাতে জানলা থাকে বন্ধ।
চারিদিকে ডেঙ্গু সচেতনতা অনুষ্ঠান হলেও , অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতাল কোয়ার্টারের।
ওই আবাসনে ভাড়া দিয়ে থাকা শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের জিডিএ স্টাফ স্নেহাশীষ ব্যানার্জি, অভিযোগ তোলেন, তার স্ত্রী সমাপ্তি ব্যানার্জির ডেঙ্গু পজেটিভ রিপোর্ট এসেছে গতকাল। একমাত্র সন্তান আজ সাত দিন ধরে জ্বরে আক্রান্ত। আর এইসবের জন্য তিনি দায়ী করেছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। তার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই আবাসনে অন্য দুজন ডাক্তার এবং একজন স্বাস্থ্যকর্মী থাকলেও তারা পরিবার নিয়ে থাকেন না, মাঝে মাঝে শুধু শুতে আসেন। প্রথম প্রথম তিনি একজন গ্রুপ ডি স্টাফ হয়েও ওই ব্লকের নোংরা আবর্জন পরিষ্কার করান, নিজের টাকা খরচ করে। কিন্তু প্রতি দু তিন মাস অন্তর সেই খরচ তিনি একভাবে একা দেবেন কেনো? রীতি মতন সরকারি ভাড়া, দিয়ে থেকেও যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। শুধু এই ব্লকের নয় সমগ্র কোয়াটারের মোট চারটি ব্লকের একই পরিস্থিতি।
সমাপ্তি দেবী বলেন, রাস্তার দোকানের আবর্জনা হোক বা রাস্তার পাশের ময়লা সবটাই ফেলা হয় কোয়ার্টারে ঢোকার গেটের সামনে, একমাত্র ছোট্ট একটি ব্যালকনিতে দাঁড়ানো যায় না, পথ চলতি দের প্রস্রাবের কারণে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন আজকে স্বাস্থ্য কর্মীরা যেখানে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে বাস করছে সেখানে ডেঙ্গু সচেতনতার কোন যৌক্তিকতা আছে ?
তাদের অভিযোগ অনুযায়ী শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে সুপারকে বারংবার বলে এবং লিখিতভাবে জানিয়েও মেলেনি ফল, তাই সিএমওএইচের দারস্ত হতে চলেছেন তারা।
যদিও এ বিষয়ে হাসপাতাল সুপার ডক্টর তারক বর্মন আমাদের কোনো প্রতিক্রিয়া না দিয়ে দায় এড়িয়েছেন পৌরসভার বিষয় বলে।
তবে শান্তিপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, হাসপাতাল বা আবাসন পরিচ্ছন্ন রাখার দায়-দায়িত্ব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের, যেহেতু শহরের মধ্যে তাই আমরা প্রতিনিয়ত কর্মীদের দিয়ে পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করি। তবে এক্ষেত্রে কোন আর্থিক সহযোগিতা পুরসভা কে করা হয় না। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মী বাড়িতে পৌরসভার প্রতিনিধি আজ সকালে গিয়েছিল সেই সাথে সাফাই কর্মীরাও কাজ করেছে।
এ প্রসঙ্গে, বিজেপির শান্তিপুর বিধানসভার কনভেনার সুব্রত কর জানান, পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কেমন তা বোঝা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ তৃণমূলের নেতারা হাঁচি কাশি হলেও আমেরিকায় যান।
সচেতনতা আর অনুষ্ঠানের নামেই চলছে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সরকারি কোষাগার ধ্বংস। আদতেও কিছু কাজ হচ্ছে বলে আমরা মনে করি না, শহর গ্রামের একই পরিস্থিতি চারিদিকে আবর্জনা নোংরা জল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। তাইতো, জেলার মধ্যে রানাঘাট দক্ষিনে আক্রান্ত সংখ্যা সর্বাধিক, মৃত্যুও ঘটেছে। আর শান্তিপুর হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা নিয়ে পুরসভা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে ঠেলাঠেলি করছেন।