পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই রণক্ষেত্র নদীয়ার শান্তিপুর কলেজ, দফায় দফায় ভাঙচুর

মলয় দে নদীয়া:- স্নাতক স্তরের ফার্স্ট সেমিস্টারের প্রথম পরীক্ষা হিসাবে কম্পালসারি বাংলা ছিলো আজ। শান্তিপুর কলেজে সিট পড়ে কৃষ্ণনগর ডিএল রায় কলেজের ১০৮০ জন পড়ুয়াদের।
পরীক্ষা শুরুর আগে, ছাত্র-ছাত্রীদের কথা অনুযায়ী ,শান্তিপুর কলেজের ক্যাম্পাসের মধ্যে ডি এল রায় কলেজের ইউনিয়নের ছেলেদের সাথে শান্তিপুর কলেজের এক অধ্যাপক রামকৃষ্ণ মন্ডলের বচসা বাধে ।
তবে, পরীক্ষার্থী না হয়ে শান্তিপুর কলেজ ক্যাম্পাসে কিভাবে ঢুকলো ইউনিয়নের ছেলেরা সে প্রসঙ্গে শান্তিপুর কলেজের আরক্ষীকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পরীক্ষার্থী না হয়েও তারা কলেজে প্রবেশ করতে চাইছিলো পরীক্ষায় নকল করার সহযোগিতার জন্য, বাধা দিলেই এই বাধে এই অশান্তি ।
কৃষ্ণনগর ডিএল কলেজের ছাত্রদের অভিযোগ, শিক্ষকদের একাংশ এবং ইউনিয়নের ছেলেরা তাদের বেধড়ক মারধর করে।
অভিযোগ করেন তাদের পরীক্ষায়, উপস্থিত খাতায় সই করানো হয়নি।
তবে বাইরে পরীক্ষারত অভিভাবকরা যথেষ্ট চিন্তিত ছিলেন বিষয়টি নিয়ে। তারাও অভিযোগ করেন, আরো সচেতন হওয়া দরকার ছিল শান্তিপুর কলেজ কর্তৃপক্ষকে।
এরপর ক্লাসরুমের সামনে রাখা বেশ কয়েকটি গাছের টব ভাঙচুর করে। পরীক্ষা কেন্দ্রের দরজা জানলা ভাঙচুর করে, বেশ কিছুটা সময় বিলম্বে শুরু হওয়ার পর, শান্তিপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার মুহূর্তে আবারো রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় শান্তিপুর কলেজ।
অন্যদিকে শান্তিপুর কলেজের সিট পড়েছিলো কৃষ্ণনগর গভমেন্ট কলেজেএ সেখানেও বেশ কিছু ছাত্রদের আটকে রেখে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ। এমন কি কৃষ্ণনগরে প্রান্থতীর্থ এলাকায় , শান্তিপুর কলেজের বেশ কিছু ছাত্রকে, আটকে রাখা হয়েছে বলেই জানা গেছে। এ বিষয়ে শান্তিপুর কলেজের সংসদ সদস্যরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ছাড়িয়ে আনতে গেছে।
তবে এ বিষয়ে, প্রথম অশান্তির সূত্রপাতের সাক্ষী অধ্যাপক রামকৃষ্ণ মন্ডল এ বিষয়ে মুখ খোলেননি।
প্রধান অধ্যক্ষা ডঃ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আজ উপস্থিত না থাকার কারণে, ভারপ্রাপ্ত অধ্যাপক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য জানান গোটা বিষয়টি অধ্যক্ষা এবং গভর্নিং বডির সভাপতি তথা বিধায়ক ব্রজ কিশোর গোস্বামী এবং পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
তবে বিভিন্ন বক্তব্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপুর কলেজের নিরাপত্তা বিষয়ক সিসি ক্যামেরা, শান্তিপুর থানার পুলিশ পোস্টিং, এবং গেটে কড়া নিরাপত্তা কোনটাই রক্ষা করেননি অভিভাবকরা।