মলয় দে নদীয়া:- নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে নদীর সিঁড়ি ঘাট বাঁধানোর কাজ করায় আটকে দিল গ্রামবাসীরা। ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার নদীয়ার ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কৃষ্ণগঞ্জের শিব নিবাস এলাকায়। কৃষ্ণগঞ্জে চূর্ণী নদীর ধারে অবস্থিত নদিয়ারাজ মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্রের তৈরি সুপ্রাচীন ও এশিয়ার বৃহত্তম শিবলিঙ্গ । শিব নিবাস মন্দিরে সারা বছর ধরেই হাজার হাজার পুর্নার্থীদের সমাগম ঘটে। শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবার ও শিবরাত্রিতে লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমাগম হয় । ভক্তবৃন্দরা নদীতে স্নান সেরে চূর্ণী নদী থেকে জল নিয়ে শিবলিঙগে জল ঢালেন ও শিব নিবাস মন্দিরে পুজো দেন। যার ফলে দীর্ঘদিন ধরেই চূর্ণী নদীর ধারে একটি পাকা সিঁড়ি ঘাট তৈরি করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। সম্প্রতি এলাকাবাসীদের দাবি মেনে শুরু হয় নদীর সিঁড়ি ঘাট তৈরির কাজ। কাজটি সম্পন্ন করতে নদিয়া জেলা পরিষদ মারফত ১৪ লক্ষ ৫৬ হাজার ২৩২ টাকা অনুমোদিত হয়। কিন্তু সিঁড়ি ঘাট তৈরির জন্য নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে এই দিন অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এবং নদীর সিঁড়ি ঘাট তৈরির কাজে সঠিক মানের সামগ্রী ব্যবহার করার দাবিতে এইদিন বিক্ষোভ দেখানোর পাশাপাশি নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন বিক্ষোভকারীরা। এছাড়াও নির্মাণ কাজটি কার্যত বন্ধ রেখে ফিরে যেতে হয় কাজটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা সরকার পক্ষের প্রতিনিধিদের। এই প্রসঙ্গে স্থানীয় মাজদিয়া এলাকার বাসিন্দা রাজু ঘোষ বলেন, শিবনিবাস মন্দিরে দূর দূরান্ত থেকে অগণিত দর্শনার্থীদের সমাগম হয়। এবং প্রত্যেকেই পুজো দেওয়ার আগে এই নদীতে স্নান করেন। যার ফলে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় বহিরাগত পুর্ণার্থী থেকে শুরু করে এলাকাবাসীদের। সকলের সুবিধার্থে চূর্ণী নদীর এই ঘাটটি পাকাপাকিভাবে বাঁধানোর জন্য এলাকাবাসীদের তরফে সরকার পক্ষের কাছে একাধিকবার দাবি জানানো হয়। মূলত সেই দাবি মেনে নদিয়া জেলা পরিষদের উদ্যোগে শুরু হয় নদীর সিঁড়িঘাট বাঁধানোর কাজ। কিন্তু নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ করার অভিযোগে নির্মাণ কাজটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় এলাকাবাসীরা। মূলত শিব নিবাস প্রাক্তন ঘাট মালিক জয়দেব সিংহ নিম্নমানের কাজের প্রতিবাদ জানান ও কাজ বন্ধ করে দেন ।পাশাপাশি সিঁড়ি ঘাট বাঁধানোর ক্ষেত্রে নিম্নমানের লোহার রড, সিমেন্ট ব্যবহার করা ছাড়াও মাত্র তিন ইঞ্চিরও কম ঢালাই করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন রাজু বাবু। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে নির্মাণ কার্য হলে যে কোন মুহূর্তে বড়সড়ো কোন দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারেন পুন্যার্থীরা বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মূলত সেই কারণেই সঠিক মানের সামগ্রী ব্যবহার করে ঘাট তৈরি করার দাবিতে ঘাটের নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা বলে জানান তিনি। এই ঘাট পরিদর্শনে এলেন নদীয়া জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আধিকারিকরা । গ্রামবাসীরা কাজের সিডিল চাইলেও তারা কোন সিডিল দেখাতে পারেননি । পাশাপাশি আধিকারিকরা দায় সেড়ে বলেন জেলা পরিষদে গিয়ে দেখে আসবেন । সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেন তাহলে ঘাটের কাজ বন্ধ কেন ? এর উত্তরে জেলা পরিষদের এক কর্মী বলেন লিখিত দেখান তারপর বলব । সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে আধিকারিক বলেন কোন অভিযোগ নেই তাই কিছু বলবো না। এই ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ দেখা দিয়েছে ।

