নদীয়ার শান্তিপুর নৃসিংহপুরে শতবর্ষ প্রাচীন সুবিশাল ছয় গাছের মৃত্যুর এক বছর কেটে গেলেও, বিপদজনক অবস্থায় রাস্তার পাশে, পথচারী থেকে দোকানদার বাড়ছে ক্ষোভ

মলয় দে নদীয়া:- শান্তিপুরের অন্যতম ব্যবসায়িক স্থান নৃসিংহ পুর । পূর্ব বর্ধমান হুগলি এবং নদীয়া তিনটি জেলার সংযোগ স্থলে হওয়ার কারণে ধান চাল সহ বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র।
রাস্তার দুপাশে শতাব্দী প্রাচীন বেশ কয়েকটি গাছ এক অপরূপ শোভা বর্ধন করতো এই অঞ্চলে। শুধু তাই নয়, ধান চালের সাথে যুক্ত শতাধিক শ্রমিক অত্যন্ত পরিশ্রমের এই কাজ বিনা ক্লান্তিতে করতেন প্রখর গ্রীষ্মেও।
প্রায় বছরখানেক আগে, ছটি গাছের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটে। সেসময় প্রশাসনিক বা পরিবেশকর্মীদের এই মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৎপর হতে দেখা যায়নি।
তবে জঞ্জাল পরিস্কারের এর জন্যই হোক বা বিপদ এড়াতে এখন অঞ্চলের দোকান মালিকগণ এবং শ্রমিকরা তৎপর হয়েছে। এলাকা সূত্রে জানা গেছে, ওই গাছ গুলি কাটার বিষয়ে স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী সমিতি, শ্রমিক সংগঠন পঞ্চায়েতে মিটিং হয়েছে বেশ কয়েকবার। পি ডব্লিউ ডি, বনদপ্তর ,
জেলা পরিষদ এবং পঞ্চায়েত নিজেদের মধ্যেই কাজের দায় এবং দায়িত্ব নিয়ে কে অন্যের বিরুদ্ধে দায় চাপিয়েছেন।
পঞ্চায়েতের এর মধ্যে এইরকমই এক সুবিশাল জীবিতগাছ কাটার বিষয়ে কোনো সমস্যার না হলেও এই শুকনো মৃত গাছগুলি নিয়ে সমস্যা কোথায়? এ প্রসঙ্গে হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান, বলেন সেটা সরাসরি পঞ্চায়েতের মধ্যের ঘটনা, এই ছটি গাছের মধ্যে পঞ্চায়েতের অধিকার দুটি গাছে। সেই মতন টেন্ডারও জমা দেওয়া হয়েছিল কিন্তু, এ বিষয়ে কেউ এগিয়ে আসেনি। সম্ভবত গাছ কাটতে গেলে দোকানের কিছু ক্ষতিপূরণ এবং বেশ কয়েকদিন দোকান বন্ধ রাখার সহযোগিতা হয়তো পাইনি ঠিকা কর্মীরা তাতেই এই বিলম্ব। তবে যথেষ্ট বিপদজনক বুঝে আবারো খুব শীঘ্রই টেন্ডার ডাকা হবে।
তবে বাজার মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওরকম টাকা পয়সা চাওয়া তো দূরে থাক বরং তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করবো এই কারণেই, ক্রেতা এবং বিক্রেতা সহ শ্রমিকদের বিপদ মুক্ত করার জন্য।
অন্যদিকে শ্রমিক সংগঠনের পক্ষ থেকে হুমকির সুরে জানানো হয় এখনো পর্যন্ত, অনুনয় বিনয়ের পর্যায়ে চলছে, এই এক বছরে ধৈর্যচ্যূতি চুরি ঘটেছে অনেকটাই। ওই কোন গাছগুলির মধ্যে একটি গাছের তলায় তাদের বিশ্রামাগার। সম্প্রতি যে ধরনের ঝড় হচ্ছে তাতে জীবিত গাছই উল্টে যাচ্ছে। শুকনো গাছ উল্টে যখন তখন বিপদ এসে যেতে পারে। তাই পঞ্চায়েত এবং প্রশাসন এর ব্যবস্থা নিলে ভালো না হলে আগামীতে বড়সড়ো আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।