মলয় দে নদীয়া :-দীর্ঘ দিন কর্মহীনতার শেষে আশায় বুক বেঁধেছিলেন রথের মেলায়! পুলিশি শাসনে বিতাড়িত হয়ে বিক্ষুব্ধ হকাররা জানান পেটে গামছা বেঁধে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি! রেশন, ব্যাংক, ভ্যাকসিন নিতে লাইনে দাঁড়ালে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হয় না! শয়ে শয়ে মাইক বাজছে শহরজুড়ে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যোগদান পর্ব চলছে সাড়ম্বরে! অথচ যত নিয়ম খেটে খাওয়া মানুষের উপর!
এরকমই নানা কথা উঠে আসলো, শান্তিপুর বড়বাজার এবং বড় গোস্বামী পাড়া রথের মেলায় আশা দোকানিদের কাছ থেকে।
শুভ্রাংশু চক্রবর্তী শান্তিপুর নতুন বাজার বাসিন্দা 13 বছর থেকে বাবার সাথে মেলা করেন , পরিবারে পাঁচ জন সদস্যের মধ্যে অসুস্থ মা ও বৃদ্ধ বাবা ছোট দুটি ছেলে মেয়ে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খান। পড়াশোনা করতে পারেননি দারিদ্রতার কারণে। লকডাউনে কেউ খোঁজ নেয়নি ।700 টাকা গাড়ি ভাড়া করে চিনামাটির কাপ প্লেট কাঁচের বেচতে এসেছিলেন অনেক আশা নিয়ে, পুলিশের তাড়া খেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে বাড়িতে!
বাঘাযতীন পাড়ার মনোরঞ্জন বিশ্বাস 15 বছর ধরে মেলা করেন। এগ রোল চাওমিন এর দোকানের জন্য গতকালই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন মাঝ রাতে উঠে। সকালে ত্রিপল টাঙানোর পর চোখ রাঙানি।
পাবনা কলোনির বাসিন্দা নৃপেন বসাক জানান, ট্রেনে হকারী করতাম রেল বন্ধ করলো, রাস্তার পাশে বাদাম বেচবো তারও উপায় নেই ।খাবো কি, সে কথা কেউ বলেন না।
রাজু দত্ত এক নম্বর শান্তিগড় কলোনির বাসিন্দা বলেন আগে থেকে কোনো নোটিশ নেই! হঠাৎ দুপুরে পুলিশ বলছে দোকান বসানো যাবে না ।সকালে জানলে এত পরিশ্রম করে লাগাতাম না।
বাঘাযতীন পাড়ার পারুল বিশ্বাস এগ রোল চাওমিন এর দোকানদার!তিনি বলেন, হরনদী বেলেডাঙ্গায় শয়ে শয়ে মাইক বাজাচ্ছে রাত দুপুর পর্যন্ত, তাতে দোষ নেই !এগ রোল চাওমিন সেদ্ধ হয়ে গেছে এখন কি ফেলে দেবো?
রাজাপুরের বাসিন্দা ইউসুফ আলী দফাদার বলেন, রথের মেলার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বিভিন্ন গাছের চারা বিক্রি, এক কোনায় চারটে আম জাম লিচু কাঁঠালের চারা নিয়ে বসেছি তাতেও অসুবিধা ওদের!

