মলয় দে নদীয়া :-বেলা বোসের নাম্বার সকলের মুখস্ত থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিসের ল্যান্ডলাইন নাম্বার দীর্ঘদিন অপেক্ষা হয়ে যাওয়ার কারণে ভুলতে বসেছে সাধারণ মানুষ। হাসপাতাল, থানা, পোস্ট অফিস, অগ্নি নির্বাপন কেন্দ্র, বিদ্যুৎ দপ্তরের অফিসে সার্বজনীন যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে ল্যান্ডলাইন নাম্বার বিলুপ্ত হতে চলেছে। সমগ্র নদীয়া জেলা জুড়েই প্রায় একই অবস্থা।
একসময় আঠারো কুড়ি হাজার কানেকশন বর্তমানে আনুমানিক এক হাজারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
তাও কখনো সচল কখনো অচল এভাবেই বছর তিনেক ধরে চলছে।
যার মধ্যে বিগত 15 দিন যাবৎ একেবারেই নিস্তব্ধ হয়েছে সমগ্র শান্তিপুর জুড়ে। বিভিন্ন উপভোক্তা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও মেলেনি সুফল।
বিএসএনএল ল্যান্ডলাইনের প্রায় ৫০ বছরের পুরনো গ্রাহক নদীয়ার শান্তিপুরের শংকরীপ্রসাদ ভট্টাচার্যের ল্যান্ড লাইন গত দুমাস ধরে খারাপ হয়ে আছে। তিনি শান্তিপুরের বিএসএনএল দপ্তরে যোগাযোগ করলে তাকে বলা হয়,কার্ড পুড়ে গেছে যা জোগাড় করা দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছে । তাই এখন লাইন ঠিক করা যাবেনা। তাকে ল্যান্ড লাইন সারেন্ডার করে দেওয়া বা বাইরে থেকে প্রাইভেটে লাইন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শংকরী বাবু এই বিষয়ে বিএসএনএল দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, মেল টুইট করেছেন বিভাগীয় মন্ত্রীকেও। তার অভিযোগ,’সরকারি বিএসএনএল অফিসে নেই স্থায়ী কর্মী। আগে একজন সাবডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার আসতেন। তার আসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জুনিয়র টেলিকম অফিসার পদে একজনকে পাঠানো হয়েছিল। তিনিও এখন আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। মূলত চুক্তিভিত্তিক কর্মী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। আমি ৩০০০ টাকা দিয়ে ল্যান্ডলাইন নিয়েছিলাম, এবছরের রেন্টালও জমা দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই টাকা ফেরত না দিয়ে বিলের সঙ্গে অ্যাডজাস্ট করার কথা বলা হচ্ছে। প্রতিমাসে সাড়ে চারশ টাকা দিতে হচ্ছে। অথচ তা সত্ত্বেও ঠিকমতো পরিষেবা পাওয়া যাচ্ছে না।লাইন চালু করার জন্য কার্ড না পাওয়ার অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সেটা অবান্তর। আসলে এরা যেন এক্সচেঞ্জ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে আমার মনে হয়।সিনিয়র সিটিজেন হিসাবে আমার ফোন আসা যাওয়াটাই শুধু প্রয়োজন। সিনিয়র সিটিজেনরা অনেকেই মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না বা নেট প্রয়োজন নেই। তাদের কাছে ল্যান্ড লাইন সবথেকে বেশি সুবিধার। অথচ সেই ল্যান্ডলাইন পরিষেবা ঠিকমতো দেওয়া হচ্ছে না। বড় বড় মোবাইল কোম্পানিগুলোকে ভাড়া দিয়ে বিএসএনএল এর নেটওয়ার্কই তারা কোম্পানি চালাচ্ছে। অথচ সেই বিএসএনএল বলছে, তারা কার্ড পাচ্ছে না ।এটা কখনো হতে পারে? আমি এই বিষয়টি নিয়ে কৃষ্ণনগর টেলিকম ডিস্ট্রিক্ট জেনারেল ম্যানেজার সহ দুজনকে দুটি মেইল করেছি। অথচ সেই মেল আইডি নাকি ভুল। বাধ্য হয়ে আমি টেলিকম ওয়েস্ট বেঙ্গল সার্কেলেরে চিফ জেনারেল ম্যানেজার কে টুইট করেছি। এছাড়া আমি টেলিকমের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকেও টুইট করে জানিয়েছি যে, শান্তিপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জের বেহাল পরিস্থিতি জানিয়ে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো উত্তর আসেনি। আমি চাই, শান্তিপুর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ চালু করে ল্যান্ড লাইন পরিষেবা ঠিকমতো দেওয়া হোক।’
এ প্রসঙ্গে, এক্সচেঞ্জে দায়িত্বে থাকা ক্যাজুয়াল কর্মীরা বলেন, গ্রাহকরা অনেকেই তাদেরকে দোষারোপ করছে, পুনরায় লাইন চালু হওয়ার বিষয়ে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা নিশ্চিত কিছু বলতে পারছেন না।
যেহেতু কেন্দ্রীয় সরকার পরিচালিত এক্সচেঞ্জ তাই সংসদ জগন্নাথ সরকারের কাছে প্রশ্ন করা হলো তিনি বলেন, বর্তমানে সব কিছুরই আধুনিকীকরণ হচ্ছে, সে ক্ষেত্রে নিজেদেরও আপডেট হতে হবে। সামান্য কয়েকজনের অসুবিধার কথা ভেবে, তো আর সার্বিক উন্নয়ন আটকে রাখা যায় না। তবে ওয়ারলেস ব্যবস্থা চালু আছে সরকারি অফিসে।
যদিও আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখেছি সে ধরনের ব্যবস্থাতেও এমন কি বিএসএনএলের মোবাইল নেটওয়ার্কিং পর্যন্ত বেহাল পরিস্থিতি।
প্রশ্ন একটাই, তাহলে কি আগামী দিনে বিলুপ্ত হয়ে যাবে ল্যান্ড লাইন নাম্বার এবং ব্যবস্থা? সাধারণ মানুষ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে সার্বিকভাবে যোগাযোগ করবেন কিভাবে?

