মলয় দে নদীয়া :-আজ ঈদুল-আযহা, অর্থাৎ কুরবানীর ঈদ। সাথে গ্রামাঞ্চলে চলছে আর এক উৎসব পঞ্চায়েত নির্বাচন।
নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের হরিপুর পঞ্চায়েতের হরি নদী দক্ষিণ কেন্দ্র আশা নম্বর বুথের বিজেপি প্রার্থী, মোহন শেখ । ওই এলাকার ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়াবেশ কিছু যুবকরা, বাড়িতে এসেছে, একদিকে যেমন ঈদ অন্যদিকে তেমনি মোহন কে ভোট দিতে।
এলাকার, ৮ থেকে ৮০ সকলের মুখে একই কথা, বিগত দিনে কংগ্রেস তারপর তৃণমূল এভাবে কেটেছে কিন্তু গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবার সারা বছর ধুলো এবং বর্ষাকালে নোংরা জলকাদা পেরিয়ে বিভিন্ন কাজে যান। মহিলাদের জল আনতে যাওয়া বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া ভীষণ সমস্যা।
এবারের বিজেপি প্রার্থী মোহন তার কয়েকজন বন্ধু ১০-১২ বছর ধরে বিজেপি করলেও, এবারে গ্রামের প্রায় সকলেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাস্তার না হওয়ার কারণে ঘরের ছেলে নতুন মুখ মোহনকেই ভোট দেবেন।
তার উপর একই পরিবার থেকে জাতীয় কংগ্রেসের প্রার্থী রাজেশ মন্ডল, তৃণমূল প্রার্থী আমোদ আলী মন্ডল, নির্দল প্রার্থী অনিলা বিবি মন্ডল দাঁড়িয়েছে আগামী দিনের ক্ষমতা নিজেদের হাতে রাখার জন্য। এর মধ্যে অনিলা বিবি মন্ডল দীর্ঘ ১০ বছর তৃণমূলের পঞ্চায়েত মেম্বার ছিলেন, মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী হওয়া সত্ত্বেও, তৃণমূলের প্রার্থী আমোদ আলী মন্ডল এর বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন। তাই তৃণমূলের ভোট ভাগ হয়ে, মোহনের পালে হাওয়া লাগবে বলেই মনে করছে এলাকাবাসী।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সচরাচর বিজেপি প্রার্থী দেখা যায় না। এ প্রসঙ্গে মোহন কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, তৃণমূলের অধীনে এত সংখ্যালঘু নেতৃত্ব থাকা সত্ত্বেও বেশিরভাগ কবরস্থান ব্যবহারের অনুপযোগী, সেখানেও শান্তি নেই মৃতদেহ অঙ্গ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আসলে তৃণমূল সংখ্যালঘুদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করে, মানুষ ধীরে ধীরে বুঝতে পেরেছে তাই বিজেপিতে বিশ্বাস রাখছে। বিজেপির সংখ্যালঘু সেলে, মুসলিম খ্রিস্টান জৈন সকলেই সুরক্ষিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ভ্যাকসিন হোক বা রেশন কিংবা রাস্তা বা যেকোনো প্রকল্প যখন অনুমোদন করেন তখন সংখ্যালঘু এলাকা হিসেবে বিচার করেন না। এটা তৃণমূল অপপ্রচার করে, বিজেপিকে সাম্প্রদায়িক আখ্যা দিয়ে নিজেদের অধীনে রাখতে চেষ্টা করে সংখ্যালঘুদের। তবে মানুষ আর এখন বোকা নেই তারা, কাজের নিরিখে ভোট দেয়। তাই এই গ্রামে, ১০০ শতাংশ নিশ্চিত আমিই জিতব।
গ্রামের সাধারণ মানুষ বলেন মহান গ্রামের মোহন প্রার্থীই এবার তাদের ভরসা। অন্যদিকে প্রার্থীও নিশ্চিত করেন, জিতলেই হবে রাস্তা।

