ঢেঁকি শব্দটা আজকের দিনের প্রজন্ম চিনতে পারবে কিনা তা লাখ টাকার প্রশ্ন? কারণ বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি । পৌষ সংক্রান্তি হোক কিংবা মকর সংক্রান্তির পার্বণ সর্বকালেই পিঠের প্রচলন রয়েছে । কিন্তু গ্রামাঞ্চলে হাজারদুয়ারি খুঁজলেও ঢেঁকির সন্ধান পাওয়া দুষ্কর। তবে ঢেঁকির খোঁজে বের হয়ে সন্ধান পাওয়া গেল বিলুপ্তির পথে থাকা ঢাঁকির। তেলিয়ামুড়া শহর থেকে প্রায় 5 কিলোমিটার দূরে এক মহারানী পুর এর কপালি টিলায় মিলল নিখোঁজ সন্ধান। আজ বাদে কাল পৌষ সংক্রান্তি মকর সংক্রান্তি উৎসব। আর এই । শহর থেকে গ্রাম সর্বত্রই এই পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠে পুলির একটা প্রচলন রয়েছে। পিঠে তৈরি করার জন্য যে চালের গুঁড়ো প্রয়োজন । অতীতে এই চালের গুঁড়ো জন্য ব্যবহার করা হতো ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি । কিন্তু বর্তমানে এই ঢেঁকির মাধ্যমে চালের গুঁড়ো,মাশ ডালের গুঁড়ো করার দৃশ্যটি প্রায় নজিরবিহীন । কিন্তু গ্রামাঞ্চলে আজও জীবিত রয়েছে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকির মাধ্যমে চালের গুঁড়ো করে পিঠে পুলি তৈরি করার প্রচলন। যদিও শহরের সংস্কৃতি থেকে যুগে পিঠে পুলি তৈরি করার একাংশ সামগ্রীর বাজার থেকে ক্রয় করে আনতে হয়।, কিন্তু গ্রামাঞ্চলে আজও জীবিত রয়েছে পৌষ সংক্রান্তির বিভিন্ন ঐতিহ্য বজায় রাখার জন্য পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে পূজার্চনা করা। আর বর্তমান যুগে ঢেঁকির মাধ্যমে চালের গুঁড়ো করে পিঠে পুলি তৈরি করতে দেখাই যায় না কিন্তু গ্রামাঞ্চলে আজও মা-ঠাকুমারা ঢেঁকির মাধ্যমে চালের গুঁড়ো করে পৌষ সংক্রান্তিতে পিঠে পুলি তৈরি করার প্রচলন আজও রয়েছে। ঢেঁকির মাধ্যমে শুধু চালের গুড়ি নয়, চিরে, মাশ ডালের গুঁড়ো, সহ বিভিন্ন মসলার গুঁড়ো করে থাকে গ্রামাঞ্চলের রমনীরা। তবে বর্তমানে ডটকমের যুগে হারিয়ে যাক গেছে প্রাচীন প্রচলিত ঢেঁকির ব্যবহার। এই ব্যাপারে বলতে গিয়ে এক গৃহিণী জানান,ছোটবেলা থেকেই ঢেঁকির কাজ করার পদ্ধতি শিখে এসেছে। যা বর্তমানে স্বামীর বাড়িতে এসেও ঢেঁকিতে চালের গুঁড়ো সহ বিভিন্ন মসলার গুঁড়ো করে থাকেন। তবে বর্তমান গ্রামাঞ্চলে গৃহবধূরা ঢেঁকির ব্যবহার করতে জানেন না। মেশিনারি যুগে মেশিনের মাধ্যমে সমস্ত ধরনের গুঁড়ো করে নিয়ে আসে। ফলে ঢেঁকির কাজের আগ্রহ নেই। পৌষ সংক্রান্তি আসতেই তার বাড়িতে পাড়াপড়শির চালের গুঁড়ো,চিরে সহ বিভিন্ন ধরনের মসলা গুঁড়ো করতে আসে।

