ডাক্তার আমি হবই !বার বার চেষ্টা করে ডাক্তারি পাশ করলেন ৫২ বছর বয়সের প্রদীপ হালদার
মলয় দে নদীয়া:- কথায় আছে,শেখার কোন বয়স হয় না।সেটা আরও একবার প্রমাণিত হল। বার বার চেষ্টা করে ডাক্তারি পাশ করলেন ৫২ বছর বয়সের প্রদীপ হালদার । তিনি অতি দরিদ্র পরিবারের সন্তান, পেশায় নীজে দীনমজুর । তিনি মাধ্যমিকের পর আর পড়ার সুযোগ করে উঠতে পারেননি তাই পড়াটাও হয়নি । তাই সাংসারিক চাপের কারণে পেট বাঁচানোর চিন্তা করে হাতের সামনে এই পেশাকেই বেছে নিতে হয়েছিল তাকে। ছোট বেলা থেকে ডাক্তারি পড়ার ইচ্ছে ছিল প্রবল । এই জন্য এলাকার লোকজন উপহাস করে বোলতো ঐ দেখ এমবিবিএস ডাক্তার যাচ্ছে ! সমস্ত কটুক্তি শুনেও কোনো উত্তর না দিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে মনের মধ্যে লুকিয়ে রাখত জেদ আর চালিয়ে যেত অধ্যাবসায় ।২০০০ সালে বিজ্ঞান শিক্ষায় উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন কোন প্রাইভেট টিউশনি ছাড়াই ।তারপর জয়েন্ট এন্ট্রান্সে বসার জন্য কিছু পুরাতন বই কেনা শুরু করেন।এবং সেই বই পড়া শুরু করেন। ভোর থেকে দিনমজুর কাজে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সন্ধ্যেবেলায় বাড়ি ফিরে স্নান ।
সমস্ত স্বপ্নকে পেছনে ফেলে সেই সময় তার অতীতটাকে প্রায় ভুলে যেতে হয়েছিলো বেশকিছু বছরের জন্য। পরিবারের ইচ্ছায় বিয়ে করতে বাধ্য হন তিনি এবং পরবর্তী সময় তার দুটি সন্তান হয।এক ছেলে এবার মাধ্যমিক দিয়েছে ।দু’জনকেই কষ্টের মধ্য দিয়ে মানুষ করতে হচ্ছে দীনমজুরি করেই। তবে সন্তানের পড়াশোনা করাতে গিয়ে শাপে বর হল তার।ছেলেদের পড়ানোর ফাঁকে ফাঁকে নিজেই পড়ে নেন খানিকটা নিয়মিত তাদের সাথে পড়তে বসেন । বাড়ির স্ত্রীও এমন কান্ড দেখে বিরক্ত হয়ে বলেন ,ঐ সব নাকরে সংসারের কাজে মন দাও যতসব পাগলের প্রলাপ । তবুও বইয়েই মুঝে থাকতেন প্রদীপ বাবু।পাড়ার আত্মীয়দের কাছে এমনকি নিজের বাড়িতে তাকে পাগলামি নিয়ে কথা শুনতে হত বারবার ।তবে কে কার কথায় কান দেয় মানুষের কথা তো মানুষই বলবে , তবে এতে জেদ বেড়েছিল আরো। শপথ নিয়েছিলেন এবারে আর পেছনে নয়, এগোতেই হবে।
তারপর রচিত হলো নতুন ইতিহাস , 52 বছর বয়সে এবার তিনি উত্তীর্ণ হলেন জয়েন্ট এন্ট্রান্স। অর্থ এবং পরিস্থিতির কারণে ডাক্তারি পড়া হবে কিনা তা জানা নেই তবে
যারা তাকে একসময় পাগল বলেছেন আজ তারাই এখন বাহবা দিচ্ছেন। অনুপ্রেরণা তৈরি হয়েছেন অন্যদের জন্য। কর্মকাণ্ডকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন বিভিন্ন জ্ঞানীগুণীজন।
অসম্ভব ধৈর্য এবং জেদের নিদর্শন পাওয়া গেলো নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানা এলাকার বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া প্রতাপ পুর গ্রামে । ছোট্ট ভগ্ন দশা ঘর ,দীনমজুর, কোন দিন খাবার জোটে কোন দিন জোটেনা । যেখান থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত মাত্র একশো মিটার দূরত্বে ।সেই সীমান্তের 52 বছরের বয়সের আজ এপার বাংলা ওপার বাংলা মানুষের মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে প্রদীপ বাবুর নাম । তিনি এমবিবিএস পাশ করার চেষ্টা করেছিলেন সুযোগ হয়নি তাতে কি আছে? হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ তো আছে । হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজে সুযোগ সেখান থেকেই তার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে । তিনি একসময় ভেবেছিলেন হয়তো তার ডাক্তারী পড়া আর হবে না কিন্তু কথায় আছে লক্ষ্য যদি ঠিক থাকে তাহলে সব স্বপ্নই পূরণ করা সম্ভব ।প্রদীপ বাবু তিনি লক্ষ্য থেকে সরে না গিয়ে 2021 সালে নিট পরীক্ষায় বসেন এবং সকলকে চমকে দিয়ে পাশ করেন তার নেট রাঙ্কিং 346,234 ।হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের কলেজের অধ্যক্ষ চট্টোপাধ্যায় বলেন এত বয়সে কেউকে মেডিকেলে পাস করতে দেখিনি কিন্তু প্রদীপ হালদার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়ে যেভাবে পাশ করেছেন তাতে
অধ্যক্ষ চট্টোপাধ্যায় যথেষ্ট খুশি ।আর প্রদীপ হালদার এর কথায় এমবিবিএস হলো না তো কি হয়েছে? হোমিওপ্যাথি ডাক্তার তো বলতে পারব ।তার স্বপ্ন এভাবেই পূরণ হোক । আমরাও চাই তিনি একজন সুপ্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক হোন । পরিবারের কষ্ট দূর হোক । তাঁর এহেন প্রচেষ্টাকে আমরা সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকেও কুর্নিশ জানাই ।

