ঝড় জল মাথায় নিয়ে, মাত্র দেড় ঘণ্টার মধ্যে মোটরসাইকেল চালিয়ে রানাঘাট ব্লাড ব্যাংক থেকে, রক্ত নিয়ে এসে প্রাণ বাঁচালো স্বেচ্ছাসেবীরা

মলয় দে নদীয়া :-
গতকাল তখন বিকাল আনুমানিক চারটে হবে।
শান্তিপু শহরের মালঞ্চের বাসিন্দা, জাহিরুল মন্ডল এবং বর্ষা খাতুনের একমাত্র সন্তান হঠাৎই তালস্বরে চিৎকার করে কেঁদে চলেছে দীর্ঘক্ষণ ধরে। তড়িঘড়ি শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসলে, চিকিৎসকগণ বলেন, হিমোগ্লোবিনের মাত্রা 2.7 অর্থাৎ অর্থাৎ তাকে শীঘ্রই রক্ত দেওয়ার প্রয়োজন। হাসপাতালে, ব্লাড ব্যাংক না থাকায়, তাদেরকেই যোগাড় করতে হবে রক্ত।
বাচ্চার রক্তের গ্রুপ না জানার কারণে, রক্তের স্যাম্পল হিসেবে দেওয়ার জন্য সামান্য রক্ত বেশ কিছুটা সময় লাগে তাদের।
আকাশে কালো মেঘ দমকা হাওয়ায় ছুটে চলেছে, উঁচু গাছগুলি মাথা নুইয়ে বিপদগ্রস্ত অবস্থা।
বাচ্চার মা বর্ষা খাতুন, উদগ্রীব হয়ে যোগাযোগ করেন , স্থানীয় ভগিনী নিবেদিতা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এক সদস্য প্রভাত বিশ্বাসের সাথে। তিনি শান্তিপুর তথা জেলার মধ্যে রক্ত নিয়ে কাজ করা অন্যতম সংগঠন সেতুর কর্মকর্তা রুহুল্লাহ কারিগরের সাথে যোগাযোগ করেন। তিনি তার সহযোদ্ধা টোটন বাবুকে নিয়ে, রানাঘাট ব্লাড ব্যাংকের উদ্দেশ্যে রওনা দেন ঝড়ের মধ্যেই। গুরুত্ব বুঝিয়ে ব্লাড ব্যাংক থেকে রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করে, এক ইউনিট রক্ত নিয়ে ফিরে আসেন দেড় ঘন্টার মধ্যে। রানাঘাট থেকে রওনা দেওয়ার সময় বৃষ্টি শুরু হয়েছিলো, সারাটা পথ তারা ভেজে মোটরবাইকে।
রুহুল্লাহ জানায়, রাস্তায় ছোট ছোট গর্তে জল জমা খেয়াল করতে না পেরে এক জায়গায় পড়ে যান তারা, রক্ত ছিলো নিরাপদেই।
শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে এসে পরিবারের হাতে রক্ত তুলে দেন তারা।
আবেগপ্রবণ হয়ে নিয়ম বহির্ভূতভাবে, রোগীর পরিবারকে আমাদের প্রশ্ন ছিলো, বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত শত শত আত্মীয় বন্ধু পরিজন এলাকাবাসী কেউ এলো না এ সময়! স্বল্প অশিক্ষিতা, মা বর্ষা খাতুন লজ্জিত হয়ে বলেন, এভাবে কখনো বিপদে পড়ে উপলব্ধি হয়নি। শিশুর এক আত্মীয়া, আমাদের প্রশ্নেরই উত্তরে জানান এটা রক্তঋণ শোধ দিতে হবে পরিবারের কোনো সদস্যের রক্তদানের মাধ্যমে।
যদিও এ বিষয়ে প্রশ্নের উত্তরে রহুউল্লা দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফলে বৃদ্ধি হওয়ার ধৈর্যের সাথে বলে, আগের থেকে অনেক সচেতন হয়েছে মানুষ আগামীতে হয়তো সম্পূর্ণ হবে।