মলয় দে নদীয়া :-
শান্তিপুর ব্লকে দশটি পঞ্চায়েতের মধ্যে সর্ববৃহৎ পঞ্চায়েত হরিপুর। এখানে গত 2018 সালের নির্বাচনে ২৬ টি সিট থাকলেও জনসংখ্যার নিরিখে এবার তা বেড়ে হয়েছে ৩০টিতে। বেশকিছু নির্দল প্রার্থীরা জয়ী হওয়ার পর তৃণমূলে যোগ দিয়ে, পঞ্চায়েতের তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড নিশ্চিত করেন।
অধিবাসীদের প্রধান জীবিকা তাঁত এবং ধান থেকে চাল প্রস্তুত করার কারখানা। এবং অন্যান্য ছোটখাটো ব্যবসা ভাগীরতি তীরবর্তী হওয়ার কারণে মৎস্যজীবীও আছেন বেশ কিছু।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, তাঁত শিল্প এখন মৃতপ্রায়। উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পেয়ে, পরিযায়ী শ্রমিকের রূপান্তরিত হয়ে তাঁত শ্রমিকরাই ভিন রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন পরিবার ফেলে।
যেমন সংখ্যালঘুর ভোট ভোট আছে তেমনি আছে মতুয়া সম্প্রদায়ের বসবাস। আদিবাসী পাড়াও আছে বেশ কয়েকটি।
শাসক দল বিজেপি বিরোধী তৃণমূল এবং সিপিআইএম ত্রিমুখী লড়াই।
সিপিআইএমের ভরসা তাদের সততা অতীতে রাজ্য চালানোর অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে স্বজন পোষন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণের পঞ্চায়েত গড়ার ডাক । স্থানীয় স্তরে জেলা পরিষদের সভাধিপতি, পঞ্চায়েত সমিতির গতবারের জয়ী সদস্যদের এলাকায় না পাওয়ার অভিযোগ। পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের নামে কাট মানির অভিযোগ আনেন সিপিআইএম।
অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল ইন্ডিয়া এবং আচ্ছে দিন, মন কি বাত, ভারত মাতার বন্দনা দিয়ে ভোটারদের কাছে এসে সিপিএমের কালো দিন তৃণমূলের চোর ধরো জেল ভরো স্লোগানে মুখরিত করে এবারে বাজিমাত করতে চাইছেন এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনের আসরে। তাদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পে এ রাজ্যে অর্থ বরাদ্দ করলে জব কার্ড থেকে শুরু করে বার্ধক্য ভাতা বিধবা ভাতা এমনকি বিভিন্ন স্বাস্থ্য নিধি প্রকল্পেও গৃহ আবাস যোজনার মতন কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য এবং জেলা পরিষদ। রাজ্যের বিভিন্ন নেতা মন্ত্রীদের মতন জেলে যাবে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য থেকে জেলা পরিষদ পঞ্চায়েত সমিতি সমস্ত তৃণমূলের সদস্যরা। নৃসিংহপুর কালনা ব্রিজের সরকারি টাকা খেয়ে ফুলেফেঁপে উঠেছে তৃণমূলের কর্মীরাও। তাইতো বন্ধ কেন্দ্রীয় অনুদান, জনগণ বুঝেছে চোরেদের জেলে ভরলে তবেই হবে সামগ্রিক উন্নয়ন।
সাধারণ মানুষ এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলের অভিযোগ অনুযায়ী এক নজরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা:-
স্থানীয় স্তরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প পেতে কাটমানি, কালনা নৃসিংহপুর ব্রিজে জমিদারদের ভুল বুঝিয়ে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি, প্রধান রাস্তা কয়েকটি হলেও সমস্ত গলি পাড়ার রাস্তা এখনো চলার অনুপযোগী, স্থানীয় একটি লাইব্রেরী থাকলেও বাম আমলের পর থেকে তা জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। উদাসীন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কারণে তাঁত শ্রমিকরা পরিণত হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিকে, সরকারি গৃহ আবাস যোজনা পেয়েছে তৃণমূল অথবা মেম্বার ঘনিষ্ঠ পরিবার কারোর কারোর পরিবারে দুটো তিনটেও ঘর মিলেছে। অথচ বঞ্চিত রয়েছে প্রান্তিক পরিবার গুলি।, শ্মশানে কোনো কর্মী নিয়োগ কর্মী নিয়োগ হয়নি পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে, তাই নিজেরাই নিজেদের মতন দাহ করে নেন মৃতের পরিবার। ভয়ংকর নৌকাডুবিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটলেও এখনো ভাগীরথী পারাপার হয় বিনা লাইভ জ্যাকেটেই।
মহীরূহ সবুজে ঘেরা এলাকায় শতবর্ষ প্রাচীন দশটি গাছের একইসঙ্গে মৃত্যু, এমনকি পঞ্চায়েত অফিসেও গাছ কাটা নিয়ে সংশয়, সামান্য কিছু এলাকায় বাড়ি বাড়ি কল পৌঁছালেও জল মেলেনি, রাস্তার বিদ্যুৎ পোলে জ্বলে না আলো। একদিকে যেমন প্রায়ই লোডশেডিং এর দাপট, অন্যদিকে বিভিন্ন পানীয় জলের প্রকল্প গুলি বন্ধ ,সাধারণ মানুষকে কিনে খেতে হয় জল।বেশ কিছু কৃষকদের অভিযোগ প্রাণী প্রতিপালনকারীদের হাঁস মুরগি ছাগল,বিনামূল্যে শস্যবীজ সার ওষুধ দেওয়া তো দূরে থাক ন্যূনতম শস্যবীমা, কৃষক ভাতাও মেলেনি ।
তবে শাসক দলের সাফাই, উন্নয়ন জানে সরকারি অধিকর্তারা এবং গ্রাহকরা, ভোটের সময় বিরোধীদের ভোট বৈতরণী পার করার কৌশল শাসক দলকে গালমন্দ করা। তাই এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ। রাস্তা আলো নিয়ে কোনো, সমস্যাই নেই তবে পানীয় জলের প্রকল্প কাজ শুরু হয়েছে তা সকলের বাড়িতে পৌঁছবে অল্প দিনের মধ্যেই। জলপথে তিন জেলার সংযোগকারী, বিভিন্ন লঞ্চ খেয়া পরিসেবা অনেক উন্নতি সাধন হয়েছে, সুবিশাল অত্যাধুনিক বাস স্ট্যান্ড নির্মিত হয়েছে।
বিজেপি হোক বা সিপিএম তৃণমূলকে ঠেকাতে নিচু তলায় অলিখিত জোট, তাতেও বর্তমান মানবিক রাজ্য সরকারের উন্নয়ন আটকাতে পারবে না তারা।

