কল্যাণপুর থানাধীন শান্তিনগর গ্রামের অন্তর্গত সোনাছড়া এলাকায় এক মানব খুলি এবং মানব শরীরের কিছু হাড়-গোড় উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে।

ত্রিপুরা রাজ্যের
তেলিয়ামুড়া মহাকুমার
কল্যাণপুর থানাধীন শান্তিনগর গ্রামের অন্তর্গত সোনাছড়া এলাকায় এক মানব খুলি এবং মানব শরীরের কিছু হাড়-গোড় উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। সম্পূর্ণভাবে সনাক্ত করা না গেলেও অনুমান করা হচ্ছে বিগত মাস ছয়েক আগে খোয়াই থানাধীন বাসন্তী টিলার জনৈক খোকন দেবনাথ (৪৮)নিখোঁজ হয়েছিলেন নিজ বাড়ি থেকেই। গত জুন মাসের 21 তারিখ খোয়াই থানায় একটা নিখোঁজ ডায়েরিও করা হয়েছিল পরিবারের তরফ থেকে। এরপর থেকে আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না খোকন দেবনাথ নামে পেশায় দিনমজুর বাসন্তীটিলার সেই ব্যক্তির।
আজ অর্থাৎ 20 শে জানুয়ারি 2022 ইংরেজি বৃহস্পতিবার সকাল আনুমানিক দশটা নাগাদ শান্তিনগরের সোনাছড়ার একটা পরিত্যেক্ত সেগুন বাগানে গাছ কাটতে গেলে স্থানীয় মানুষজন এই নর খুলির অস্তিত্বের ব্যাপারে জানতে পারেন ।তখন সাথে সাথেই কল্যাণপুর থানায় খবর দেওয়া হলে কল্যাণপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে প্রায় 40 হাত লম্বা একটা গাছের উপরে দুটা গামছা জোড়া দিয়ে বাঁধা ছিল, এই গাছের গোড়াতেই একটা গেঞ্জি পড়া ছিল। পরিবার সূত্রে দাবি করা হচ্ছে এই গেঞ্জিটি নাকি খোকন দেবনাথের ছিল অর্থাৎ পারিপার্শ্বিক ঘটনা বা মাথার খুলির অবস্থান এবং উদ্ধার হ‌ওয়া পোশাক বা গামছার উপরে নির্ভর করে পরিবার সূত্রে অনুমান করা হচ্ছে হয়তোবা এই মাথার খুলি টি সবার আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া খোকন দেবনাথের‌ই। কিন্তু প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে যে খোকন দেবনাথ কখনো গাছে উঠতে পারেন না, সেই খোকন দেবনাথ কিভাবে 40 হাত লম্বা গাছের উপরে উঠে ফাঁসি দেবেন? জনমানসে গোঞ্জন 12 নিজ বাড়ি থেকে অনেকটা দূরে এই ঘন জঙ্গলেইবা কিভাবে খোকন দেবনাথের খুলি এল? মোদ্দা কথা হচ্ছে এই ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্ন এবং চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। যদিও কল্যাণপুর থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে।
এদিকে খোকন দেবনাথের ভাইয়ের অভিযোগ এই ঘটনার পেছনে তার বৌদি অর্থাট খুকন দেবনাথের স্ত্রী জড়িত থাকতে পারেন। অন্যদিকে খোকন দেবনাথ এর স্ত্রী নমিতা দেবনাথ আমাদের সাথে কথা বলার সময় জানালেন তিনি কাউকে দোষারোপ করছেন না, বা কারো অভিযোগ নিয়েও কর্ণপাত করতে নারাজ। তিনি পুলিশ প্রশাসনের কাছে দাবি করছেন আগে তদন্ত করে দেখা হ‌উক এই মাথার খুলি কিংবা হাড় সত্যিকার অর্থেই খোকন দেবনাথের কিনা! এরপর বাকিটা তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে আশা প্রকাশ করছেন নবিতা দেবনাথ। জানা গেছে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া খোকন দেবনাথ পেশায় একজন কৃষিজীবী এবং প্রান্তিক চাষী ছিলেন। তার দুই ছেলের মধ্যে এক ছেলে বর্তমানে বেকারিতে কর্মরত এবং আরেক ছেলে কোন একটা কোম্পানির কাজে সুদুর চেন্নাইতে রয়েছেন ।
সে যাই হ‌উক সাত সকালে শান্তিনগর গ্রামের এই জঙ্গলাকীর্ণ এলাকাতে নরখুলি উদ্ধারের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এখন দেখার পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত ক্রমে কি নির্যাস বের করতে পারে।