কর্মীর অভাবে বন্ধের মুখে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ রেশম নার্সারি

সুমিত ঘোষ,মালদা: মালদা জেলার আম জগৎবিখ্যাত। ঠিক সেই রকমই সেই তালিকায় যুক্ত মালদার রেশম শিল্প। একদিকে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রেশম শিল্প বাঁচাতে একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ, আধুনিক সুতো কাটার মেশিন প্রদান করা হচ্ছে রেশম শিল্পীদের। কিন্তু অন্যদিকে কর্মীর অভাবে বন্ধের মুখে উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ রেশম নার্সারি। মালদহের ইংরেজবাজার ব্লকের পিঁয়াস বাড়ি এলাকায় রয়েছে এই রেশম নার্সারি। এখান থেকে কৃষকদের তুঁত গাছের চারা, রেশম পোকার গুটি প্রদান করা হয়। সরকারি উদ্যোগে তৈরি এই নার্সারি। একসময় এই নার্সারি থেকে গোটা পশ্চিমবঙ্গে রেশম চাষের জন্য তুঁত গাছ, রেশম পোকা দেওয়া হত কৃষকদের। একসময় এখানে কর্মী সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০ জন। কিন্তু বর্তমানে সেই সংখ্যা ১০ থেকে ১২ জন নেমে এসেছে। আগে এই নার্সারি থেকে ১০ থেকে ১২ হাজার টন গাছের চারা প্রদান করা হতো কৃষকদের। কিন্তু বর্তমানে কর্মীর অভাবে মাত্র ১০০ থেকে ২০০ টন গাছের চারা প্রদান করা হচ্ছে। ভগ্ন দশায় পড়ে রয়েছে গোটা নার্সারি চত্বর। ১৯০ বিঘা জমির উপর তৈরি বিশাল এই নার্সারি এখন আগাছায় ভরপুর। তেমন আর নার্সারিতে উৎপাদন হয় না পলু পোকা থেকে রেশম চারা। সরকারি কোনো উদ্যোগও নেই বলে দাবি স্থানীয়দের। পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে, নার্সারীর বিভিন্ন সামগ্রী ভবন। যদিও প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন করে এই নার্সারীর উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান ওই নার্সারীর সুপারেনডেন্ট ডঃ মনিশংকর ঘোষ । পোলু পোকা থেকে শুরু করে তার সঙ্গে চারা আরো বেশি করে আবারো উৎপাদন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে নতুন এই উদ্যোগের ফলে। জেলার এই নার্সারিতে উন্নত মানের পোলু পোকা ও চারা গাছ উৎপাদন হলে জেলার রেশম চাষিরা অনেকটাই লাভবান হবেন।
অন্যদিকে এই বিষয়ে মালদা জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা বর্মন ঘোষ জানান, আমের পাশাপাশি রেশম শিল্পের জন্য পরিচিত মালদা। রেশম শিল্পকে বাঁচাতে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। ওই রেশম নার্সারিতে কর্মী নিয়োগ করার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।