এক সময় রাজনীতি থেকে ছিন্ন হয়ে চাকরীতে যোগ দিয়েছিলেন পার্থ চট্যপাধায়।
৯০ এর দশকে মমতা বন্দপাধ্যায় কংগ্রেসের যুব নেত্রী হওয়ার পর, ফের রাজনীতি সক্রিয় হন পার্থ।
ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের কট্টর সমর্থক একটা খেলাও মিস করতেন না।সেই সময় ইস্ট বেঙ্গলের খেলা হয়েছে আর গ্যলারীতে পার্থ নেই এমনটা কোন সময় হয়নি।
তবে সত্তরের দশকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবন শুরু আশুতোষ কলেজ থেকে। কলেজে পা রেখেই ছাত্র পরিষদের সদস্য হন। অল্প সময়েই হয়ে ওঠেন ছাত্র সংসদের সক্রিয় সদস্য।
তখন ছাত্র পরিষদের সভাপতি ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। মূলত তাঁর উদ্যোগেই অশুতোষ কলেজে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হন পার্থ। এক সময় দক্ষিণ কলকাতা জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতিও হয়েছিলেন তিনি।
দক্ষিণ কলকাতা জেলা সভাপতি থাকাকালীন পার্থর সঙ্গে আলাপ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মমতাও তখন যোগমায়া দেবী কলেজে ছাত্র পরিষদের নেত্রী।
দক্ষিণ কলকাতা জেলা ছাত্র পরিষদের সভাপতি থাকতে থাকতেই ম্যানেজমেন্ট পড়া শুরু করেন পার্থ। পড়াশোনার ব্যস্ততার জেরে রাজনীতি থেকে সরে আসেন। ইস্টবেঙ্গলের কট্টর সমর্থক ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় ইস্টবেঙ্গলের খেলা থাকলেই পার্থকে দেখা যেত গ্যালারিতে। পড়াশোনার জন্য রাজনীতি ও খেলার মাঠে যাওয়া দুই-ই ছেড়েছিলেন তিনি।
চাকরিতে যোগদানের পর রাজনীতির সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায় পার্থর। তবে নব্বইয়ের দশকে মমতা যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী হওয়ার পর ফের পার্থর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ শুরু হয়।
১৯৯৭ সালের ডিসেম্বরে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি পথচলা শুরু করে মমতার নেতৃত্বাধীন তৃণমূল। বেসরকারি সংস্থায় বড় বেতনের চাকরি ছেড়ে পার্থ যোগদান করেন তৃণমূলে।
২০০১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে মমতার প্রথম পছন্দ ছিলেন ফুটবলার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তিনি ভোটে না দাঁড়াতে চাওয়ায় মমতা বেহালা পশ্চিমে প্রার্থী করেন পার্থকে। প্রথম বার ভোটে দাঁড়িয়েই জেতেন তিনি।
২০০৬ সালের ৩০ নভেম্বর সেই সময় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা পার্থ চট্যপাধ্যায়।তারই নেত্তিত্তে বিধানসভা ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। বামফ্রন্টের তরফে সেই সময় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হলেও পার্থের দাবি ছিল, ওই দিন সিঙ্গুর যাওয়ার পথে তাঁদের নেত্রী মমতাকে যেভাবে অপমান করেছিল পুলিশ, তাতে বিধানসভায় ভাঙচুর করে তাঁরা ভুল করেননি।
কিন্তু গত ১৯ মে প্রথম বার এসএসসি দুর্নীতি মামলায় সিবিআইয়ের মুখোমুখি হন পার্থ। পরে আরও এক বার সিবিআইয়ের কাছে হাজিরা দিতে হয় তাকে। তারপর শুক্রবার সকালে ইডি তাঁর বাড়িতে হানা দেয়। ২৭ ঘণ্টা জেরার পর শনিবার সকালে গ্রেফতার করা হয় পার্থকে।
আজ নেই তার মন্ত্রিত্ব নেই কোন দলীয় পদ তাকে বহিস্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।এক সময়ের এই দাপুটে নেতার বর্তমান ঠাকানা প্রেসিডেন্সি জেলের দুই নাম্বার সেল।

