একই ব্যক্তি একজোড়া চোখ দিয়ে আলাদাভাবে দেখেছেন নারী এবং পুরুষ জাতিকে, রূপান্তরকামীর চোখে নারী দিবস
মলয় দে নদীয়া:- কৌশিক দত্ত হোক বা কৌশিকী। একজোড়া চোখ দিয়েই আলাদাভাবে দেখেছেন পুরুষ এবং মহিলাদের। একটু দেরি হলেও গতকাল নারী দিবস উপলক্ষে আমরা পৌঁছেছিলাম শান্তিপুর বল্লভী আচর্য পাড়া লেনে সফল নৃত্যশিল্পী রূপান্তরকামী কৌশিকী দত্তের কাছে। 16 বছর বয়স পর্যন্ত তিনি ছিলেন পুরুষ। বাবা মার একমাত্র সন্তান। পড়াশোনার কারণে কলকাতায় থাকার সময় বিদ্যালয় আবাসিক অন্যান্য পুরুষ ছাত্রদল যৌন লাঞ্ছনার শিকার হয়েছিলেন তিনি। ফিরে এসে শান্তিপুরের বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পড়াশোনা। মাধ্যমিক উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে স্নাতক। তবে চাকরির প্রত্যাশা কোনদিনই করেননি তিনি, তার ইচ্ছা তৃতীয়লিঙ্গের মতো তালি বাজিয়ে নয়, যৌনকর্মীদের মত দেহ বিক্রি করেও নয়। নাচ শিখিয়ে উপার্জিত অর্থ থেকেই আগামীতে গড়ে তুলবেন অনাথ আশ্রম এবং বৃদ্ধাশ্রম।
কলকাতা এবং অন্যান্য ব্যস্ত শহরে এসব নিয়ে কেউ কুটকাচালি না করলেও মফঃস্বলে আত্মীয় পরিজনের বাঁকা চোখের চাহুনি আজও রয়েছে তবে, এতে তিনি কিছু মনে করেন না কারণ এটা যে একটি শারীরবৃত্তীয় অনুভূতি তা পরিবারের বাবা-মাকে বোঝাতেই বেশ খানিকটা বেগ পেতে হয়েছিল তাকে। তবে তার মতে কে কিভাবে থাকবে খাবে পড়বে তার স্বাধীনতা থাকা উচিত প্রত্যেকটি মানুষের, একজনের শারীরিক অনুভূতি অন্যজনকে সম্পূর্ণভাবে ব্যক্ত করা সম্ভব হয় না যতক্ষণ না সে অনুভব করছে। তার চলাফেরা আদব-কায়দা সাজ পোশাক সমস্ত নারীর অনুকরণযোগ্য হলেও পুরুষ তার চোখে স্রষ্টা। নারী ধারক। একে অন্যের পরিপূরক।

