মলয় দে নদীয়া :- অতীতে জাতীয় কংগ্রেসের গান্ধী পরিবার পরবর্তীতে, তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেও সিপিআইএম প্রশ্ন তুলে থাকে পরিবারতন্ত্রের। তবে নদীয়ার শান্তিপুর ব্লকের গয়েশপুর পঞ্চায়েতের ভোলাডাঙ্গা গ্রামে একই পরিবারে একজন দুজন নয়, তিন তিন জন প্রার্থী সিপিআইএমের।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে ওই এলাকার দীর্ঘদিনের লড়াই আন্দোলনের সাথী রহেদ শেখ, হরিপুর অঞ্চলের সিপিআইএম দলের সম্পাদক । গত নির্বাচনের নিরিখে, এবং সম্প্রতি সাগর দিঘির বাইরন বিশ্বাসের দলপরিবর্তনে, হঠাৎ দলে আশা কাউকে নয়, দীর্ঘদিনের বামপন্থী কর্মী এবং দলীয় ভরসাযোগ্য প্রার্থীর ওপর যোগ দিয়েই প্রার্থী বাছাই হয়েছে এবার। তাই দলীয় নির্দেশ অগ্রাহ্য করতে পারেননি তিনি। ভোলাডাঙ্গা এলাকায় ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৪০০ হওয়ার জন্য দুটি প্রার্থী ৮ নম্বর বুথে যার একটি তিনি নিজে অপরটি বৌমা কাবেরী বিবি। ওই সংসদ এলাকায় সমিতির প্রার্থী হয়েছে তার মেয়ে নিলুফা খাতুন। তবে বাবা এবং মেয়ের দুজনেরই পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে বৌমা রাজনীতিতে আনকোরা। ১৯৯৮ সালে সিপিআইএম পরিচালিত
গয়েশপুর পঞ্চায়েতে তিনি জয়ী হয়েছিলেন এই বুথ থেকেই, তবে গতবার পঞ্চায়েত সমিতিতে দাঁড়িয়ে পরাজয় ঘটেছিলো মেয়ের । এবারে রহেদ বাবু আত্মবিশ্বাসী, তিনজনেই জেতার বিষয়ে। শুধু এখানেই নয় আশেপাশের টেংরিডাঙ্গা, মেদিয়াপাড়া, মুসলিম পাড়া, মানিকনগর সর্বত্রই বেশ কয়েকজন প্রার্থী জয়লাভ করবে সিপিআইএমের।এর পেছনে অবশ্য তিনি , তাদের গর্বের ৩৪ বছরের রাজ্য শাসন, বর্তমান তৃণমূল নেতৃত্ব এবং মন্ত্রীদের জেলে যাওয়া, সর্বোপরি সমস্ত পঞ্চায়েতে সরকারি আবাস যোজনা, ১০০ দিনের কাজ, বিভিন্ন প্রকল্পে কাট মানি দুর্নীতির বিরুদ্ধে রায় দেবে সাধারন মানুষ। তবে, মিছিল মিটিং দেওয়াল লিখন ফ্লেক্স ব্যানারের আঢড়ম্বতা হয়তো নেই, তবে তাদের পরিবারের উপর এবং দলের উপর ভরসা ১০০ শতাংশ। বাড়তি পাওনা, তৃণমূলের অন্তকলহ। প্রত্যেক ক্ষেত্রেই তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী দাঁড়িয়েছে, এলাকার তৃণমূল নেতৃত্ব। এমনকি স্ত্রী তৃণমূলে স্বামী পাশের সংসদে তৃণমূলের বিরুদ্ধে নির্দল প্রার্থী। তাই এই সব মিলিয়ে জয় নিশ্চিত। তবে সংখ্যালঘু এলাকা হওয়ার কারণে বিজেপি প্রার্থী নেই অনেক জায়গাতেই।

