গত ২৭শে জানুয়ারি , আগামী গোষ্ঠীর সূচক পড়ে যাওয়ার পর আদানিকে সরাসরি চিটিংবাজ বলছে হিডেনবার্গ সংস্থা। মাত্র কয়েক বছরে একজন নাম না জানা ব্যবসায়ী বিশ্বের অন্যতম বড় ব্যবসায়ী হওয়ার পেছনেও রহস্যময় ভাবে দেখছেন বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। মাত্র দু’দিনে চার লক্ষ কোটি টাকা লস আদানি গ্রুপের। আধুনিক এন্টারপ্রাইজ এর দাম ৩৫% কমেছে গত পাঁচ দিনে। এই চার পাঁচ দিনের মধ্যেই আগামী গ্রুপের নেট ওয়ার্থ ১৩৫ বিলিয়ন ডলার থেকে মাত্র ৭৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে গেছে। ভারতের প্রথম এবং বিশ্বের তৃতীয় ধনী এখন বিশ্বের মধ্যে ১৫।
ভারতের এলআইসি স্টেট ব্যাংকের মতন নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠানও যথেষ্ট পরিমাণে বিনিয়োগ করেছেন। আর এখানেই সংশয়ে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত জমানো অর্থর ভবিষ্যৎ নিয়ে।
জাতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে, সারা দেশ জুড়ে বিভিন্ন স্টেট ব্যাঙ্ক এবং এলআইসি অফিসের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
নদীয়ার শান্তিপুর স্টেট ব্যাংকের সামনেও, শান্তিপুর শহর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দীর্ঘক্ষণ ধরে একটি বিক্ষোভ পথসভা লক্ষ্য করা যায়। উপস্থিত ছিলেন , জেলা আইএনটিইউসি অলোক চক্রবর্তী, শান্তিপুর শহর কংগ্রেস সভাপতি রাজু পাল, শহর কংগ্রেস কমিটির অন্যতম সদস্য ,বর্ষিয়ান নেতৃত্ব সোমনাথ কুন্ডু, নিমাই আচার্য, শ্যামল দে ,তরুণ দত্ত সহ বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।
এ প্রসঙ্গে অলোক চ্যাটার্জী বলেন, সাধারণ খেটে খাওয়া গরিব মানুষের লোন নেওয়ার সময়, ব্যাংকের নানান ফরমায়েশ, দুর্নীতির শিখরে থাকা এক ব্যক্তিকে , শিল্পপতিদের লোন দেওয়ার সময় সাধারণ মানুষের গচ্ছিত টাকা থাকা সত্ত্বেও তাদের অনুমতি নেওয়া হয় না।
শহর কংগ্রেস সভাপতি রাজু পাল বলেন, কংগ্রেসের রাজত্বকালে উন্নয়নের শিখরে থাকা জিডিপি বর্তমানে তলানিতে ঠেকেছে। বেসরকারিকরণ এবং বিলগ্নীকরণের হঠকারী সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের উপার্জন এবং সঞ্চয় প্রশ্নচিহ্নর মুখে দাঁড়িয়ে।
৪১কোটি টাকা সম্পত্তির অধিকারী এলআইসি এক শতাংশরেও কম বিনিয়োগ আছে আদানিতে। স্বয়ংবরতা সূচক ১৬০ শতাংশ, তাই নিয়ে এত দুশ্চিন্তা কেনো? প্রশ্নের উত্তরে কংগ্রেস নেতৃত্ব বলেন, অর্থের পরিমাণ যাই হোক, কেন্দ্রীয় সরকারের অঙ্গুলিহেলনেই সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপত্তায় রাখার বদলে, ভুল জায়গায় লাগাচ্ছে স্টেটব্যাংক এলআইসি। এর প্রতিবাদে আগামীতে, সারা দেশ জুড়ে গ্রাহকরা সোচ্চার হয়ে উঠবেন জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বে।

