আজ বছরের প্রথম সূর্য গ্রহণ

মলয় দে নদীয়া:- বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। সকাল ৭টা বেজে ৪ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা বেজে ২৯ মিনিট পর্যন্ত গ্রহণ থাকবে। সবমিলিয়ে গ্রহণ থাকবে ৫ ঘণ্টা ২৪ মিনিট সময়। যদিও ভারত থেকে এই গ্রহণ দৃশ্যমান হবে না। এই সূর্যগ্রহণকে হাইব্রিড সূর্যগ্রহণ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছে।
সূর্যগ্রহণের ১২ ঘণ্টা প্রাক্কালে সুতক কাল শুরু হয়।
এই সময়ে মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকে। শুভ কার্য বা পূজা-পাঠ বন্ধ থাকে। সুতক কালে মন্ত্রের জপ করা হয়। গ্রহণ কাটলে সুতক কাল সমাপ্ত হয়।
যদিও এ সমস্ত কুসংস্কার এবং অন্ধবিশ্বাস বলে মনে করেন বিজ্ঞান কর্মীরা।
বিজ্ঞান মতে পৃথিবী সূর্যের চারপাশে পরিক্রমা করে। চাঁদ পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে। যখন ঘুরতে ঘুরতে চাঁদ, সূর্য, পৃথিবী একই রেখায় এসে উপস্থিত হয় তখন গ্রহণ হয়। যখন চাঁদ এসে সূর্য ও পৃথিবীর মাঝে উপস্থিত হয় তখন তাঁকে সূর্যগ্রহণ বলে।
ভারতে সূর্যগ্রহণ নিয়ে নানা প্রবাদ প্রচলিত রয়েছে। এই সময়ে খাওয়া বা রান্না করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। পুরান মতে, যারা গ্রহণের সময় অন্ন ভোজন করেন, তাদের নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয় এবং কামানো পূণ্য সব নষ্ট হয়ে যায়।
গর্ভবতী মহিলাদের গ্রহণ চলাকালীন বাইরে বেরোতে নিষেধ করা হয়। এমনকী সূর্য দর্শনেও বিধিনিষেধ রয়েছে জ্যোতিষমতে। নাহলে গর্ভের সন্তানের ওপরন তার বিরূপ প্রভাব পড়ে।
গ্রহণের সময় শুয়ে থাকা বা ঘুমানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। বসে থেকে মন্ত্র জপ করতে পারেন।
গ্রহণ চলাকালীন ধারালো জিনিস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলারা যেন ধারালো বস্তুর ব্যবহার না করেন। তাহলে জ্যোতিষমতে গর্ভের সন্তানের পক্ষে তা মঙ্গলজনক নয় বলে মনে করেন ধার্মিকরা।
কিন্তু বিজ্ঞান এর পেছনে কোন কারনই খুঁজে পায় নি। বরং সমাজকে কুসংস্কার আচ্ছন্ন করে রাখার বিরুদ্ধে তাদের নানান রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা সচেতনতার জন্য জনসম্মুখে উপস্থাপন করে থাকেন বিজ্ঞান কর্মীরা। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সারা বছর বিজ্ঞান চেতনা বাড়ানো এবং কুসংস্কার মুক্ত হওয়ার জন্য নানান সেমিনার হাতে কলমে বিজ্ঞান, লৌকিক নয় অলৌকিক এ ধরনের নানা কর্মসূচি রূপায়িত হয়ে থাকে।
এবছরের সূর্যগ্রহণ কম্বোডিয়া, চিন, আমেরিকা, মাইক্রোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিজি, জাপান, সামোয়া, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, আন্টার্কটিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, পাপুয়া নিউ গিনি, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স, দক্ষিণ ভারত মহাসাগর, দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর ও নিউজিল্যান্ড থেকে দেখা যাবে।