আজ জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা, সকাল থেকেই ভক্ত সমাগম মন্দিরে

মলয় দে নদীয়া:-আজ জগন্নাথ দেবের স্নান যাত্রা । সকাল হতে না হতেই ভক্তবৃন্দদের লম্বা লাইন শান্তিপুর ষোলো নম্বর ওয়ার্ডের জগন্নাথ তলা জগন্নাথ দেবের মন্দিরে। সেবাইত অধীর দাস জানান, এই মন্দির ভাগীরথী তীরবর্তী হওয়ার কারণে, প্রচুর ভক্ত সমাগম ঘটে,নিত্য পূজোতেও, আজ সেই সংখ্যা হয়ে যায় অগণিত। মন্দির স্থাপন আনুমানিক তিনচারশো বছর বলে জানান তিনি। সাধক শ্রী শ্রী শ্রী বিজয় কৃষ্ণ গোস্বামী আজ থেকে প্রায় একশ নব্বই বছর আগে ভাগীরথী থেকে স্নান করে, এই মন্দিরেই পুজো দিতেন। তবে এখন মন্দিরের অনেক সংস্কার হয়েছে, ভক্তবৃন্দদের সহযোগিতায়।
সনাতন ধর্মানুযায়ী জৈষ্ঠ্য মাসের পূর্ণিমা তিথিতে আয়োজিত একটি উৎসব হলো জগন্নাথ দেবার স্নান যাত্রা । আবার জগন্নাথ ভক্তদের কাছে এটি বিশেষ গুরুত্ব পূর্ণ একটি উৎসব । আবার এই দিনটিকে জগন্নাথের জন জন্ম তিথি বলেও মনে করা হয় । স্নান যাত্রা উপলক্ষ্যে সাধারণভাবে জগন্নাথ , বলভদ্র , সুভদ্রা , সুদর্শন চক্র ও মদন মোহন বিগ্রহকে জগন্নাথ মন্দির থেকে স্নান বেদীতে বের করে আনা হয় । সেখানে তাদের প্রথাগতভাবে স্নান করানো হয় এবং ভক্তদের দর্শনের জন্য সুন্দর বেশভূষায় সুসজ্জিত করানোর রীতি রয়েছে । ভক্তরা এই দিন জগন্নাথ দেবকে দর্শন করতে আসেন ।
এদিন স্নান পর্বের সমাপ্তি পরে জগন্নাথ ও বলভদ্রকে গণেশের রূপে সাজানোর জন্য হস্তিমুখ বিশিষ্ট মস্তকা বরণী পরানো হয় । জগন্নাথের এই রূপটিকে বলা হয় গজোবেশ । জগন্নাথ দেবের শয়নের জন্য প্রস্তুত করা হয় পটলের বালিশ এবং নিমের বিছানা ।
প্রথাগত বিশ্বাস অনুসারে স্নান যাত্রার পরে জগন্নাথ অসুস্থ হয়ে পড়েন । এই সময় তাকে রাজবৈদ্যের চিকিৎসাধীন গোপনে একটি সংরক্ষিত কক্ষে রাখা হয় । জগন্নাথের এই অসুস্থতার পর্যায়টি অনসর নামে সুপরিচিত । এই সময়ে ভক্তরা দেবতার দর্শন পান না । তাদের দর্শনের জন্য বিগ্রহের পরিবর্তে মূল মন্দিরে তিনটি পটচিত্র রাখা হয় ।
তবে ভক্তরা বিশ্বাস করেন এই সময়ে জগন্নাথ অলোর নাথ রূপে অবস্থান করেন । কথিত আছে রাজ বৈদ্যের আয়ুর্বেদিক পাঁচন খেয়ে এক পক্ষ কালের মধ্যে তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন ।
এর পরে, 15 দিন বাদ
ভক্তেরা আবার তাকে দর্শন করতে পারেন ।তিন ভাই ভাই বোন , সুসজ্জিত হয়ে রথে চেপে বের হন নগর পরিক্রমায়। যা রথযাত্রা নামে পরিচিত।