মলয় দে নদীয়া:-
এসেছিলো অনেক সুযোগ সুবিধার হাতছানি। নীতি আদর্শ বিসর্জন দিয়ে লোভী হতে পারেননি। আবেগের কারণেই ষাটোর্দ্ধ দম্পতি আজও বয়ে নিয়ে চলেছে বহু স্মৃতিসম্বলিত জাতীয় কংগ্রেসের পতাকা। লোক লস্কর বিহীনভাবেই, বিনা আড়ম্বরতায় নিশ্চুপভাবেই করে চলেছেন অতীতের গৌরবান্বিত সময় ফিরিয়ে নিয়ে আসার লড়াই।
নদীয়ার শান্তিপুর বেলগড়িয়া দু’নম্বর পঞ্চায়েতের ২২৩ নাম্বার বুথে গ্রাম সভায় জাতীয় কংগ্রেসের হয়ে প্রার্থী হয়েছেন ৬০ বছর বয়সী রত্না ভদ্র। স্বামী প্রতুল ভদ্রর বয়স ৬৬। রোদ বৃষ্টি এড়িয়ে, সকালে খেলার মাঠ সহ প্রাতঃভ্রমণে আসা ভোটারদের এবং বিকেলে পাড়ার মোড়ে খেলার মাঠে ক্লাবে জমায়েত হওয়া পুরুষ মহিলাদের কাছে ভোট প্রার্থনা করছেন তারা। বয়সজনিত কারণে অত্যন্ত ধীরগতিতে, যাচ্ছেন প্রতি বাড়ি বাড়ি। নিজের কিংবা দলের লোকবল বা অর্থবল কম থাকার কারণে দেওয়াল লিখন সম্ভব হয়নি, তাই রঙিন সুন্দর একটি কার্ড ছাপিয়ে পৌঁছে দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি।
জয়ের ব্যাপারে দুজনেই আশাবাদী। প্রতুল বাবু বলেন, ১৯৯৮ সালে তিনি নিজে জয়ী গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ছিলেন, সারা রাজ্যে বামপন্থীদের দাপটের মধ্যেও। পরবর্তীতে স্ত্রী পঞ্চায়েত সদস্য মনোনীত হয়,
যদিও এর মধ্যে, তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক শান্তিপুরের ৫ বারের জয়ী বিধায়ক প্রয়াত অজয় দে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিলেও তারা পড়ে থাকেন স্মৃতি এবং আবেগ নিয়েই। কিন্তু স্ত্রী জেলা পরিষদের পরিষদের প্রার্থী দাঁড়ালেও পরাজিত হন। এরপরে দশ বছরের বিরতি, এবার আবারো ভোটারদের চাহিদায় এবং দলীয় অনুরোধ ফেলতে পারেননি।
আজ বিকালে এইরকমই এক প্রচারের মাঝে, ওই বুথেরই সিপিআইএম প্রার্থী ভুলটি করে সাথে দেখা হয়ে যায় তার পাড়াতোতো বৌমা হিসেবে, গল্প গুজব চলে অরাজনৈতিকভাবেই। এ প্রসঙ্গে দুজনেই জানান, এই গ্রামের সকলের সাথে সকলের সুসম্পর্ক, ভোট আজ আছে কাল থাকবে না। রাজনৈতিক মতাদর্শ যার যার ব্যক্তিগত পছন্দ তা বলে সম্পর্ক নষ্ট কখনোই নয়। তবে দলগতভাবে সিপিএম কংগ্রেস এবারের পঞ্চায়েত নির্বাচনে সমঝোতা না হলেও বেশ কিছু এলাকায় দুদলের রাজনৈতিক কর্মীরাই কোথাও কোথাও এক প্রার্থী রেখেছেন, তবে এখানে সিপিআইএম এবং কংগ্রেস উভয়ই রয়েছে। এ প্রসঙ্গে তারা জানান, এলাকার নেতৃত্বরা সে বিষয়ে বলতে পারবেন।
তবে লোক লস্কর বিহীন মাত্র দুজন মিলে রত্না ভদ্রের প্রচার প্রসঙ্গে প্রতুল বাবু বলেন, এ দলে আয় উপার্জন কিছুই নেই, তাই কর্মীর সংখ্যাও অত্যন্ত কম। তা বাদে আমরা ঝুটঝামেলা পছন্দ করি না। ভোটাররাই বলেছেন, কিছুই প্রয়োজন নেই এসবের। অতীতের কথা মাথায় রেখে, এবারে এই প্রবীণ প্রার্থীকেই ভোট দেবেন তারা।

