হস্তচালিত তাঁত শিল্পই যেখানে রুগ্ন, মাকু উৎপাদনের কারখানা সেখানে তলানিতে
মলয় দে নদীয়া: গামছা হোক বা লুঙ্গি ধুতি হোক বা কাপড় তাঁত সাম্রাজ্যের একটি বহুল প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে মাকু। এমন কোন তাঁত নেই যে, তাঁতে মাকুর ব্যবহার নেই। ছোট কিংবা বড় সব তাঁতেই মাকু লাগবেই। অন্যান্য তাঁতে মাকু’কে পাশে রাখা হয়। এক জোড়া বোয়ার মাধ্যমে তানোর সুতো দুটি ভাগে বিভক্ত করা হয় পায়ের পেটির চাপ দেয়ার মাধ্যমে আরে ক্ষনিকের সময়ের মধ্যেই হাতের মুঠকাঠ বা বিস্করম টানের ফলে মাকুর মধ্যে থাকার নলির পোড়েন সুতো বাঁ দিক থেকে ডান দিক এবং ডানদিক থেকে বাঁদিকে আসে আর তারই মধ্যে বাঁ হাতের দক্তি টেনে ঘা দিয়ে সুতো বসানো হয়। এভাবেই বাইনরজ থেকে তানার সুতো কোল নরজে কাপড়ে রূপান্তরিত হয়।
কিন্তু জামদানি তৈরির ক্ষেত্রে মাকু’কে বাইনের সুতার নীচ দিয়ে একদিক থেকে অন্যদিকে ছুঁড়ে দেওয়া হয়। সুতরাং বুঝতেই পারছেন, কাপড় পরার ক্ষেত্রে মাক্র গুরুত্ব কতটা অপরিসীম। মূলত সারাদিন তার দৌড়াদৌড়ির ফলেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে লজ্জা নিবারণ সম্ভব হয়।
একসময় রানাঘাট আইসতলা, বীরনগর কামগাছি, নবদ্বীপ, দত্তফুলিয়া এইরকম নানান জায়গায় গড়ে উঠেছিলো মাকু তৈরির কারখানা। তবে হস্তশিল্পের তাঁতশিল্পই যেখানে রুগ্ন সেখানে মাকু তৈরির কারখানা যে তলানিতে ঠেকেছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেক খুঁজে বির নগরে এইরকমই এক কারখানার হদিস পেলাম আমরা। যেখানে শুধুমাত্র বাপ ঠাকুরদার তৈরি করা কারখানা অক্ষত রাখতে আজও ধরে রেখেছেন শিল্প। রাজ্য জুড়ে কুটির শিল্পর জন্য সিনার্জির নানান মিটিং হলেও, ডাক পান না তারা। এমনকি তাঁতিদের বিনামূল্যে দাঁত এবং অন্যান্য সহায়ক সরঞ্জাম দেওয়া হলেও সে অর্ডার পান কোনো এক ব্যবসায়ী, যিনি কোনোভাবেই উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত নন। অথচ মাকু তৈরীর শিল্পীরা সকলেই অন্যান্য ব্যবসায় নিজেদের পরিবর্তিত করলেও কিছু মানুষ আজও স্মৃতি আঁকড়ে বেঁচে রয়েছেন।
তবে শুনলে আশ্চর্য হয়ে যাবেন অন্য কোনো কাঠ নয়, ভঙ্গুর ভাব কম হওয়া শক্ত অথচ নমনীয় এবং তৈলাক্ত গাযুক্ত শুধুমাত্র তেঁতুল কাঠ দিয়েই বানানো হয় এই মাকু।

