স্ট্যান স্বামীর গ্রেফতার এবং পারকিনসন সহ বেশ কিছু মানুষের গ্রেফতারের বিরুদ্ধে এস,ইউ সি আইয়ের বিক্ষোভ নদীয়াতেও

মলয় দে নদীয়া :-আজ 13 ই জুলাই এস ইউ সি আই (কমিউনিস্ট )দলের পক্ষ থেকে কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিসের মড়ে আদিবাসীদের সমস্ত প্রকার সামাজিক শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্ত করার আন্দোলনের প্রবাদপ্রতিম নেতা স্বামী স্টানের মৃত্যুর প্রতিবাদে,পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে এবং বিধান পরিষদ গঠনের প্রস্তাবের পাশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সভা এবং বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভ সভায় এস ইউ সি আই কমিউনিস্ট দলের নদীয়া জেলা কমিটির সদস্য কমল দত্ত বলেন 2018 সালের পয়লা জুন মহারাষ্ট্রের করে গাঁও তে দলিতদের সাথে গেরুয়া ধারীদের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ও অসংখ্য মানুষ আহত হন সেই ঘটনায় স্বামী স্টান অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও যেভাবে মিথ্যা মামলায় জড়িত করে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং পারকিনসন সহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষটির জেলের মধ্যে চিকিৎসার কোনরকম ব্যবস্থা না করে এবং রাষ্ট্রের পক্ষে বিপদজনক এই অজুহাতে বারবার জামিনের আবেদন নাকোচ করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হল তাকে ধিক্কার জানানোর ভাষা আমাদের নেই।স্টান স্বামীর মৃত্যুতে শুধু দেশের গণতন্ত্রপ্রিয় সাধারণ মানুষই নয় রাষ্ট্রপুঞ্জওএই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলতে বাধ্য হয় মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া উচিত নয়।মত প্রকাশের স্বাধীনতা কেড়ে নেয় একমাত্র ফ্যাসিস্ট শক্তি। যা এক সময় ছিল জার্মানিতে। হিটলারের সেই ফ্যাসিবাদের ই পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে।স্ট্যান্ স্বামী এই পরিণতির পিছনে মূল কারণ হলো তিনি শাসকের রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে আদিবাসীদের সর্বাঙ্গীণ অধিকার রক্ষার সংগ্রামের অন্যতম নেতা তিনি ছিলেন।জল জঙ্গল জমি থেকে আদিবাসীদের উচ্ছেদের বিরুদ্ধে এবং ঝাড়খণ্ডের চাইবাসা তে তেজস্ক্রিয় আকরিক বর্জ‍্য পদার্থ ফেলার একটি ড‍্যাম তৈরি করার প্রতিবাদে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। স্টান স্বামীর মৃত্যু চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কেন্দ্রীয় সরকার আজ ইউএপিএ কিংবা ni-a প্রভৃতি আইন প্রয়োগ করে প্রতিবাদী মানুষ গুলোকে গ্রেফতার করে বিচার প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করে শাসক শ্রেণীর পদানত প্রশাসন ও তথাকথিত ন‍্যায় বিচার ব্যবস্থা যুক্ত ভাবে জেলের অভ্যন্তরে পচিয়ে মারার পরিকল্পনা করছে।আমাদের দল মনে করে 14 বছরের বেশি সময় ধরে যে সমস্ত গণ আন্দোলনের কর্মী রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের নেতা বিনা বিচারে কিংবা মিথ্যা মামলায় জেলে আছে তাদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। আর সিপিএম আমলে যে সমস্ত ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয় তাদের মুক্তি দেওয়া হবে এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন 2011 সালের আগে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু আমাদের দলের নেতা অসুস্থ হরিসাধন মালিক কে 96 বছর বয়সে বারবার জামিনের আবেদন করা সত্ত্বেও জামিন দেওয়া হয়নি।ফলে জেলের অভ্যন্তরেই তাকে মৃত্যুবরণ করতে হয়।তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন 2011সালের আগের প্রতিশ্রুতি কে স্মরণ করে আপনি দ্রুত রাজনৈতিকবন্দীদের মুক্ত করুন ।
এছাড়াও তিনি আরো বলেন জন সাধারণের ট্যাক্সের টাকা খরচ করে বিধান পরিষদ গঠন যুক্তিহীন। কারণ গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রবক্তা জন স্টুয়ার্ট মিল অপ্রত্যক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে কোন গঠিত আইনসভাকে সমর্থন করতেন না। করণা সংক্রমণ অতি মারীর কারনে এবংআমফান ও ইয়াস ঝড়ে বিধ্বস্ত বাংলার জনজীবন। অসংখ্য মানুষ অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন এই অবস্থায় জনগণের কোটি কোটি টাকা বিধান পরিষদের জন্য খরচ করা ঠিক হবে না। তাদের আবেদন বিধান পরিষদ গঠন করা থেকে আপনি বিরত থাকুন।
একই দাবিতে জেলার রানাঘাট, শান্তিপুর ,করিমপুর কালিগঞ্জ,নাকাশিপাড়া, পলাশীপাড়া সহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।