মলয় দে নদীয়া:- সুপার সিঙ্গার সিজন- ৪ অবশেষে শেষ হল বাংলার সেরা গায়ক গায়িকা খোঁজার লড়াই। ৫ মাস হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর সুপার সিঙ্গার ৪ এর খেতাব জিতলেন শুভদীপ দাস চৌধুরী। দ্বিতীয় হলেন নদীয়ার বিখ্যাত কীর্তনীয়া অনুরাধা গোস্বামী।
ফার্স্ট রানার আপ অর্থাৎ দ্বিতীয় স্থানাধিকারীনী অনুরাধা নদীয়ার মেয়ে। শান্তিপুর কলেজ মোড় নিবাসী অনুরাধা
সংস্কৃতে অনার্স নিয়ে স্নাতক হওয়ার পর এমএ পাঠরতা, বাবা সারা ভারত কীর্তন ভক্তিগীতি শিল্পী সংসদের সদস্য।
বাবা বলেন, মাত্র কয়েকদিনের ক্ষনিকের শো তে ভারতের প্রাচীন সুবিশাল ঐতিহ্য বর্ণনা করা সম্ভব নয়, অনুরাধা এবং তার দিদি রাধিকার মত সন্তান পেয়ে, আমি গর্বিত। অনুরাধার ইচ্ছা অনুযায়ী, ভাগবত পাঠ, পদাবলী কীর্তন, শ্রীখোলের মত সনাতনী ঐতিহ্য শেখানোর শিক্ষায়তন গড়ে উঠুক সরকারি তত্ত্বাবধানে।
মা এবং বড় দিদিও অনুরাধার পদাবলী কীর্ত্তনের ২১ বছরের সহযোগী।
বড় এই প্লাটফর্ম পাওয়ার আগেও, আধ্যাত্মিক জগতে অনুরাধার এবং তার পরিবারের পরিচিতি দেশজুড়ে।
তবে অনুরাধার , কাছ থেকে দর্শকরা অনেক কিছু জেনেছে শিখেছে! কিন্তু সে কি শিখলো? প্রশ্নের উত্তরে সে জানায়, প্রথম শিক্ষাগুরু তার বাবা ধ্রুব নারায়ণ দাস , দ্বিতীয়ত শান্তিপুরের গৌরচন্দ্র কবিরাজ যার জন্য সে আজ জনসমক্ষে, তৃতীয় শিক্ষাগুরু শ্রীধাম নবদ্বীপের গীত সুধা সরস্বতী দাস। তবে উপস্থাপনার কৌশল গ্রমিং থেকে শেষ পর্যন্ত, অনেক কিছু শিখেছে সে।
পারিবারিকভাবে নিরামিষাশী হওয়ার কারণে, সে সেখানে গিয়ে নিজের হাতে রেঁধে খেতো। একটি পর্যায়ে ছিলো যেখানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা, এক্ষেত্রে অনেক প্রতিযোগী নানাভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকলেও, অনুরাধার ভরসা ছিলো গৌর হরি এবং শান্তিপুরের সীতানাথের ওপর।
ইচ্ছা বলতে, তিনি জানান, অনেকেই কটাক্ষ করে সুমধুর সুরেলা কীর্তনকে কেত্তন বলে থাকেন। যদিও ভক্ত বা শ্রোতাদের দোষ নয়, মুখরোচক এবং সস্তায় বাজিমাত করতে ইদানিং অনেকে তার নিজস্ব স্বার্থসিদ্ধির জন্য সস্তা এবং বিকৃত করে তুলেছেন। লড়াইটা মূলত সেখান থেকেই। আদি কীর্তনের ভাবরসে সকল সংগীতপ্রেমী,সর্বসাধারণ, সর্বোপরি অন্য ধর্মের মানুষজন কেউ আকৃষ্ট করা তার লক্ষ্য। তবে এ বিষয়ে আগামী প্রজন্ম গড়ে তুলতে তার ছোট্ট একটি শিক্ষালয় আছে। আগামীতে সরকারি সহযোগিতায় তা আরো ব্যাক্তি ঘটানো তার মনবাঞ্ছা। যদিও তার নিজস্ব পড়াশোনা মাস্টার ডিগ্রী কমপ্লিট করার পর কীর্তন নিয়ে পিএইচডি করার ইচ্ছা।
শান্তিপুরে অনুরাধা ফেরার পর থেকেই বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, ব্যবসায়িক মহল, পুরসভা তাকে সংবর্ধিত করেছে।

